বিজয়ের মাসে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন শেখ হাসিনা: রয়টার্সের প্রতিবেদন
নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১০ জুলাই) : রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফেরার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছেন। তবে একা নন, দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরে তিনি আদালতের মুখোমুখি হতে চান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে শুক্রবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে রয়টার্স। নির্বাসনে যাওয়ার পর এই প্রথম শেখ হাসিনা তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জনসমক্ষে প্রকাশ করলেন।
সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের ঝুঁকি ও রাজনৈতিক সঙ্কল্পের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশে পা রাখার পর আমাকে বন্দি করা হতে পারে, এমনকি আমার জীবননাশের আশঙ্কাও রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাকে ফিরতেই হবে। দেশের মাটিতে আমার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর প্রতিনিয়ত যে জুলুম-নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তা আমি চেয়ে চেয়ে দেখতে পারি না। মৃত্যু যদি অবধারিতই হয়, তবে আমি চাই তা যেন আমার নিজের দেশের মাটিতেই ঘটে।”
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। একই সাথে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক তৎপরতাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই শেখ হাসিনা জানান, তিনি এবং তাঁর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়ে এবং নিজেদের আদালতের কাছে সঁপে দিয়ে মূলত তাঁরা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের শাসন ও বিচারব্যবস্থার একটি ‘পরীক্ষা’ নিতে চান।
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার জন্য ঢাকা ইতিপূর্বেই নয়াদিল্লিকে একাধিকবার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। তবে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর এই ফেরার সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বিদেশি সরকারের পরামর্শ বা মধ্যস্থতা নেই। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সরকার আমাকে ফেরত পাঠাতে ভারতের কাছে দফায় দফায় চিঠি লিখছে। তবে তাদের কষ্ট করতে হবে না, আমি নিজেই দেশে ফিরে যাব।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত দুই বছরের চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে বর্তমান প্রশাসন যখন দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক এমন মুহূর্তে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের এই ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক বিভাজন ও উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তবে রয়টার্সের পক্ষ থেকে দলের অন্যান্য নেতাকর্মী কিংবা শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো মুখপাত্রের মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মনোয়ারুল হক/
