ব্যানার-ফেস্টুনে নেই প্রধানমন্ত্রীর ছবি, প্রশংসায় পঞ্চমুখ দর্শনার্থীরা

বিশেষ প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৯ জুলাই) : রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে গুণগত পরিবর্তনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেখা গেল জাতীয় বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে পুরো আয়োজন জুড়ে ব্যানার, ফেস্টুন বা বিলবোর্ডের কোথাও দেশের সরকারপ্রধানের কোনো ছবি চোখে পড়েনি। প্রথা ভেঙে সাজানো এমন পরিপাটি আয়োজন উপস্থিত সবার দৃষ্টি কেড়েছে এবং তৈরি করেছে ইতিবাচক আলোচনা।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাভারের পরিবেশকর্মী সোলায়মান নিলয় নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকাটা সত্যিই একটি নজরকাড়া ঘটনা। দুদিন আগেই সংবাদমাধ্যমে দেখেছিলাম, সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁর ছবি ব্যবহার না করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্দেশনা দিয়েছেন। আজ এই অনুষ্ঠানে সেই নির্দেশের বাস্তব প্রতিফলন দেখে ভীষণ ভালো লাগছে। আগে যেখানে বিশালাকার ছবি দিয়ে মঞ্চ ঢেকে রাখা হতো, সেখানে আজ কেবল বিষয়ের প্রাধান্য—এটি সত্যিই অসাধারণ।”

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করা হয়। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, সরকারি কোনো অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন বা বিলবোর্ডে ত্রিমাত্রিক (থ্রি-ডি) বা অন্য কোনো আঙ্গিকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর পরিবর্তে অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য, উদ্দেশ্য ও জনসচেতনতামূলক বার্তাকে সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানেও সেই নির্দেশনার শতভাগ বাস্তবায়ন দেখা গেছে। সম্মেলন কেন্দ্রের মূল মঞ্চ ও চারপাশের দেয়ালে টানানো ২০টি ব্যানার-ফেস্টুনে কোনো ব্যক্তির ছবি না রেখে, পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার নানাবিধ দিকনির্দেশনা ও সচেতনতামূলক স্লোগান ফুটিয়ে তোলা হয়।

এই ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনীতিতে যে গুণগত রূপান্তরের অঙ্গীকার করেছিলেন, ব্যানার-ফেস্টুনে ছবি না রাখার এই সিদ্ধান্ত মূলত তারই বাস্তব বহিঃপ্রকাশ।

অনুষ্ঠানে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফরোজা রোজা নতুন এই সংস্কৃতিকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “বিগত সময়ে দেখা যেত নেতার ছবি এতো বড় করে দেওয়া হতো যে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যই আড়ালে চলে যেত। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই সংস্কৃতি ভেঙে যে সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সর্বসাধারণের মনের কথারই প্রতিফলন। এই প্রশংসনীয় সিদ্ধান্তের জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ও পরিবেশপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণার ঊর্ধ্বে উঠে অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তুকে গুরুত্ব দেওয়ার এই নতুন ধারা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ