রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৮ জুলাই) : রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও কার্যকর সমাধানের চাবিকাঠি যে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত, তা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের উত্তরে সরকারপ্রধান এ কথা বলেন।
তিনি জানান, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতাকে আরও জোরদার করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের বর্তমান জান্তা সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি সকল পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। মূলধারার কূটনীতির বাইরেও আস্থা তৈরির অন্যান্য প্রক্রিয়াগুলো সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। বর্তমানে প্রত্যাবাসনের অন্যতম শর্ত হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই (ভ্যারিফিকেশন) প্রক্রিয়া নিয়মিত চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনে তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসনের পথও খোলা রেখেছে বর্তমান সরকার।
বিএনপি সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সব ফোরামে বাংলাদেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সফল কূটনৈতিক উদ্যোগে যেভাবে রোহিঙ্গা সংকটের সুরাহা হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছে।
আন্তর্জাতিক মহলের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুকে বিশ্ব মানবিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে সরকার জাতিসংঘ, ইউএনএইচসিআর, ইউএন উইমেন এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের মতো সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে। সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর ও কক্সবাজার ক্যাম্প পরিদর্শনের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সরকার আশাবাদী।
এছাড়াও, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিশ্বজনমতকে আরও জোরালোভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। রোহিঙ্গা সংকটের মূলে থাকা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি বাংলাদেশের নৈতিক সমর্থনও অটুট রয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
মনোয়ারুল হক/
