পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৮ জুলাই) : একেবারে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে খবরের শিরোনাম হলো আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও নাটকীয়তায় ভরপুর এক ম্যাচে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আট নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। আটালান্টার মাঠে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১১ মিনিটের এক টর্নেডো স্পেলে তিন গোল করে রূপকথার এক জয় ছিনিয়ে আনে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তেই ছিল টানটান উত্তেজনা। পেনাল্টি মিস করে যেখানে দলের ‘পোস্টার বয়’ লিওনেল মেসি খলনায়ক বনে যাচ্ছিলেন, সেখান থেকেই জোড়া গোলে অবদান রেখে তিনিই আবার দলের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন। ইয়াসির ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ভর করে মিশর যখন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই শুরু হয় মেসি-ম্যাজিক। শেষ মুহূর্তের অনবদ্য ফুটবল শৈলীতে স্টপেজ টাইমসহ শেষ ১১ মিনিটে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় আর্জেন্টিনা। ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেডে ব্যবধান কমানোর পর মেসির সমতাসূচক গোল এবং যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোল মোহাম্মদ সালাহর মিশরের হৃদয় ভেঙে দেয়।

এই ম্যাচের হাত ধরে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়লেন মেসি। সেই সাথে চলতি আসরে ৮ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে গেলেন এলএম১০। ম্যাচ শেষে রোমাঞ্চকর এই জয়ের পর আবেগে অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায় আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। অন্যদিকে, রেফারি বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বিপক্ষে যাওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মিশরীয় শিবির। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তাদের একটি গোল বাতিল হওয়া নিয়ে মাঠেই তৈরি হয় উত্তেজনা, যার জেরে ম্যাচ শেষে মিশরের কোচিং স্টাফের এক সদস্যকে লাল কার্ডও দেখতে হয়।

গত ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের ঘাম ঝরানো জয়ের পর দলের ক্লান্তি দূর করতে কোচ লিওনেল স্কালোনি একাদশে নিকোলাস টাগলিয়াফিকো, লিন্দ্রো পারেদেস ও জুলিয়ান আলভারেসকে ফিরিয়ে আনেন। তবে ম্যাচের শুরুটা আর্জেন্টিনার চেনা ছন্দে ছিল না। ১৫ মিনিটেই মারওয়ান আতিয়ার ক্রস থেকে চমৎকার হেডে মিশরকে এগিয়ে দেন ইয়াসের।

পাঁচ মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। টাগলিয়াফিকো বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পট কিক থেকে মেসির দ্বিধাগ্রস্ত শটটি রুখে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। আর এই মিসের মাধ্যমে টাইব্রেকার বাদে বিশ্বকাপে নেওয়া ৮টি পেনাল্টির ৪টিই মিস করার এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়লেন মেসি। পাশাপাশি এক বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলারও বনে যান তিনি (এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও তিনি মিস করেছিলেন)। এরপর আল আহলির গোলরক্ষক শোবেইর আরও দুটি দুর্দান্ত সেভ করে ম্যাক অ্যালিস্টার ও আলভারেসকে গোলবঞ্চিত করেন।

খেলার এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর সালাহর পাস থেকে মোস্তফা জিকো চমৎকার চিপ শটে বল আর্জেন্টিনার জালে জড়ালে মিশর উল্লাসে মেতে ওঠে। তবে ভিএআরের (VAR) বিতর্কিত হস্তক্ষেপে বিল্ড-আপের সময় লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে ফাউল করার অপরাধে গোলটি বাতিল হয়। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরেই সালাহ-হাসান কম্বিনেশনে জিকো ঠিকই দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যান। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তখন কুলিং ব্রেকে আর্জেন্টাইন শিবিরে নেমে আসে চরম হতাশা।

ম্যাচের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের সূচনা করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, যার নিখুঁত হেডে প্রথম গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। ৮৩ মিনিটে গনসালো মন্টিয়েলের পাস থেকে বক্সের বাইরে দাঁড়িয়ে এক দুর্দান্ত হাফ-ভলিতে বিশ্বকাপে নিজের ২১তম গোলটি করে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান অধিনায়ক মেসি। ম্যাচের শেষলগ্নে লটারো মার্তিনেসের ক্রস থেকে উড়ে আসা বলে বুলেটগতির হেডে মিশরের জাল কাঁপান এনজো ফার্নান্দেজ। আর তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা আর্জেন্টিনা শিবির।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ