সরকারি ক্রয়ে লিড টাইম আরও কমানোর তাগিদ: বিপিপিএকে পরিকল্পনামন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৯ জুলাই) : সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনতে দরপত্র আহ্বান থেকে চুক্তি সম্পাদন পর্যন্ত সময় (প্রকিউরমেন্ট লিড টাইম) আরও কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমানে এই সময়সীমা ৫৪ দিনে নেমে এলেও প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের স্বার্থে একে আরও সংকুচিত করতে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটিকে (বিপিপিএ) কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে বিপিপিএ-এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ১০ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় সভাপতিত্বকালে মন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। উচ্চপর্যায়ের এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের সিনিয়র ভাইস-চেয়ার ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, আইএমইডি সচিব ও পর্ষদের ভাইস-চেয়ার সিরাজুন নূর চৌধুরীসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
সভায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) চালুর পাশাপাশি বিপিপিএর নানামুখী সংস্কারের ফলে সরকারি ক্রয়ের লিড টাইম প্রায় ১০০ দিন থেকে কমে এখন ৫৪ দিনে নেমে এসেছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক। তবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে এই সময়কে আরও কমিয়ে আনা জরুরি। প্রকল্প বাস্তবায়নে যেকোনো ধরনের বিলম্ব দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই ক্রয় প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ দক্ষতা, সুস্থ প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দ্রুত কাজ শেষ করতে পারলে সাধারণ মানুষ দ্রুত উন্নয়নের সুফল পাবে।
সরকারি ক্রয়ের মানোন্নয়ন ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে পর্ষদ সভাপতি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্রয় ব্যবস্থা যত আধুনিক ও কার্যকর হবে, প্রকল্প বাস্তবায়ন তত বেশি সময়োপযোগী হবে। এ সময় তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি বাড়াতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন স্বয়ং মন্ত্রণালয়ে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম তদারকি করার ঘোষণা দেন।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বিপিপিএকে চলমান আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা, ই-জিপি ও ডিজিটাল স্বাক্ষরের বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিকতা যাচাই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন। একই সাথে প্রকল্পের গুণগত মান রক্ষার্থে দক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত পর্ষদ সভা আয়োজনের মাধ্যমে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
এর আগে সভার শুরুতে বিপিপিএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসচিব এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা পেশ করেন। সেখানে তিনি সংস্থার প্রতিষ্ঠা, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, আইনি দায়িত্ব, ই-জিপি ব্যবস্থার বর্তমান অগ্রগতি, চলমান প্রকল্পের স্থিতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলো পর্ষদের সামনে তুলে ধরেন।
মনোয়ারুল হক/
