বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে গোমতী চর, ফসল রক্ষায় কৃষকের আকুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১০ জুলাই) : টানা বর্ষণ আর ভারত থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের জোড়া আঘাতে আবারও ফুঁসে উঠছে কুমিল্লার গোমতী নদী। হু হু করে পানি বাড়ায় নদীর অববাহিকা ও চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো একে একে প্লাবিত হতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে নতুন করে ফসল হারানোর চরম শঙ্কায় দিন কাটছে চরাঞ্চলের শতশত কৃষকের। ২০২৪ সালের সেই ভয়াবহ বন্যার দগদগে ক্ষত এখনো শুকায়নি নদীপাড়ের মানুষের মন থেকে, তার মধ্যেই নতুন এই দুর্যোগের পূর্বাভাসে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
নদী তীরবর্তী আদর্শ সদর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বার উপজেলার চরাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী আদর্শ সদর উপজেলার বেশ কিছু নিচু চর ইতিমধ্যে জলমগ্ন। আর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সম্ভাব্য বড় ক্ষতি এড়াতে আগাম মৌসুমি ফসল ঘরে তোলার তোড়জোড় শুরু করেছেন কৃষকরা। ফলন পুরোপুরি পরিপক্ব না হলেও লোকসানের পরিমাণ কমাতে আধা-পাকা সবজি ও ফসল বাধ্য হয়েই কেটে নিচ্ছেন তারা। ডুমুরিয়া চাঁনপুর এলাকার ভুক্তভোগী এক কৃষক জানান, চরের মাটি কেটে নেওয়ার ফলে তারা এমনিতেই ঝুঁকিতে ছিলেন, তার ওপর এখন অপরিপক্ব সবজি পানির দরে বিক্রি করতে হচ্ছে যাতে অন্তত কিছু টাকা পকেটে আসে।
নতুন করে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মনে ভেসে উঠছে ২০২৪ সালের আগস্টের সেই প্রলয়ঙ্করি বন্যার স্মৃতি। সে বছর ২১ আগস্ট ভোরে ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে বুড়িচং উপজেলার বুড়বুড়িয়া এলাকার গোমতীর মূল বাঁধটি ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যে শতশত গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়, প্রাণ হারান ১৪ জন মানুষ। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষির যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল, তা কাটিয়ে এখনো পুরোপুরি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি বুড়িচংয়ের ইছাপুরাসহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা। নতুন করে বন্যা হলে এবার আর টিকে থাকার কোনো উপায় থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গোমতীর পানি বিপৎসীমার ৮ দশমিক ৯৩ মিটারে উঠলেও পরবর্তীতে তা কমতে শুরু করে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় পানি আরও কমে বিপৎসীমার ৮ দশমিক ৫৯ মিটার নিচে অবস্থান করছে (যেখানে নদীর বিপৎসীমা ১১ দশমিক ৩০ মিটার)। আজ সকাল থেকে কুমিল্লা অঞ্চলে নতুন করে ভারি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বিকেলের দিকে পানি আরও কমতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।
“গোমতীর পানি এখনো বিপৎসীমার অনেকটাই নিচে রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বর্তমান অবস্থা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো বা ভয়ের কোনো কারণ নেই।” — মো. রাশেদ শাহরিয়ার, নির্বাহী প্রকৌশলী, কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ড।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সব ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিজ রোজী আকতার জানিয়েছেন, গতকালের তুলনায় আজ গোমতীর পানি কিছুটা কমেছে এবং এখনো বন্যার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তা সত্ত্বেও প্রশাসনের ব্যাপক পূর্বপ্রস্তুতি রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির মজুত প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মনোয়ারুল হক/
