কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি: পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি ৩ লাখ মানুষ

চট্টগ্রাম ব্যুরো, এবিসিনিউজবিডি, (১০ জুলাই) : টানা পাঁচ দিনের প্রবল বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জেলার চকরিয়া, নবগঠিত মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত পাঁচ দিনে জেলায় প্রায় ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নজিরবিহীন এই বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

বন্যার পানিতে ডুবে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পৃথক দুটি ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়। বিকেলে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় সোলতান আহমদের দুই বছরের ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম। এর আগে সকালে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে মারা যায় আরিফুল ইসলামের তিন বছর বয়সী সন্তান পুষ্প। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানিয়েছেন, নিহত দুই শিশুর পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

নদীর পানি উপচে পড়ে চকরিয়ার বরইতলী, বমুবিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, চিরিঙ্গা ও হারবাং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এবং পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, মেহেরনামা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে হু হু করে পানি ঢুকছে। গ্রামীণ সড়ক, ফসলি জমি এবং শত শত চিংড়ির ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বাঁকখালী নদীর পানি ৫.৮৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৬.৫৪ মিটারে পৌঁছানোর কারণে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, দুর্গত মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। এছাড়া উপকূলীয় এলাকার স্লুইস গেটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে যাতে জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে।

বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যেকোনো জরুরি সহায়তার জন্য সাধারণ মানুষকে ০১৮৭২৬১৫১৩২ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ