সরকারের লক্ষ্য টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা: পানিসম্পদ মন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২৯ জুলাই) : দেশের পানিসম্পদ সুরক্ষায় কেবল বিচ্ছিন্নভাবে খাল খনন নয়, বরং নদী, জলাধার ও পরিবেশ রক্ষায় একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
আজ রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বৃত্তাকার নৌ-পথের পুনরুজ্জীবন ও অভ্যন্তরীণ নৌ-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে মন্ত্রী খালগুলোকে প্রকৃতির অবয়ব ও রক্তনালীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ও নদনদীর সঙ্গে এর পারস্পরিক সংযোগ অক্ষুণ্ণ না থাকলে দেশের কৃষি, পরিবেশ, নৌ-পরিবহন এবং সামগ্রিক অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে ভূমি, কৃষি, স্থানীয় সরকার, নৌপরিবহন, পরিবেশ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আইডব্লিউএম, সিইজিআইএস এবং ওয়ারপোর মতো বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ পরামর্শের ভিত্তিতে এখন ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এ সময় বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু ও টঙ্গী নদীর বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দখল এবং শিল্পবর্জ্যের দূষণে বিপর্যস্ত এসব নদনদীর সুরক্ষা কেবল একটি নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, বরং এটি সমগ্র রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া, অতিমাত্রায় ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি উপরিভাগের পানির উৎস সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় আগামী শতবর্ষের ভবিষ্যৎ চাহিদাকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপরও জোর দেন তিনি।
নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ ও পানি সম্পদ উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানান মন্ত্রী। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধের ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিসআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। সেমিনারের নির্ধারিত আলোচনায় পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ হোসেন, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন সরকার, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং-এর সিনিয়র স্পেশালিস্ট মো. তানিম সারওয়ার, আল্টাফুয়েল ড্রেজিং অ্যান্ড মেরিন সার্ভিসেস-এর চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন শওকত ইকবাল ও ভিত্তি স্থপতি বৃন্দ লিমিটেড-এর ফাউন্ডার পার্টার স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
মনোয়ারুল হক/
