রাজধানীর যানজট রুখতে মেগা প্ল্যান: সরছে মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১৫ জুন) : ঢাকার চিরচেনা যানজটের জটলা কাটাতে এবার এক অভিনব ও দূরদর্শী মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ঢাকার প্রবেশদ্বার ও ভেতরের চিরব্যস্ত তিন বাস টার্মিনাল— মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া সরিয়ে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন মহাখালী বাস টার্মিনালকে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে পূর্বাচলে। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল দুটিও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সবুজ সংকেত মিলেছে।

সোমবার (১০ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসন সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের সভা শেষে দুই সিটির প্রশাসক এবং যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান জানান, যানজট দূর করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ত্রিমুখী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। মহাখালী টার্মিনালের বাসগুলোর জন্য আপাতত পূর্বাচলে অস্থায়ী ডিপোর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসগুলো সেখানে অবস্থান করবে এবং কেবল যাত্রী তোলার নির্দিষ্ট সময়ে টার্মিনালে আসবে। ফলে রাস্তায় যত্রতত্র বাস দাঁড়িয়ে থাকার চিরচেনা ভোগান্তি দূর হবে।

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মহাখালীতে রাস্তার ওপর যেন কোনো বাস পার্কিং না করা হয়, তা নিশ্চিত করতেই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে পূর্বাচলে বাস ডিপো করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে শতভাগ শৃঙ্খলার মধ্যে আনার কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে কাঁচপুরে প্রস্তাবিত আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুলিস্তানের যানজট কমাতে ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল সরানোর পাশাপাশি হকারদের উচ্ছেদ না করে কীভাবে পুনর্বাসন ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় আনা যায়, সে বিষয়েও রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।

বিআরটি (বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট) প্রকল্প প্রসঙ্গে ড. হাদিউজ্জামান বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এই প্রকল্পের পেছনে বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে, সাধারণ মানুষও ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তাই এটি বাতিল না করে কীভাবে একটি কার্যকর ‘পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করিডোর’ হিসেবে রূপ দেওয়া যায় এবং জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়— তা নিয়ে তিনজন বিশেষজ্ঞের সাথে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেছেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এর বিকল্প ও উন্নত সমাধান উপস্থাপন করা হবে।

একই সাথে তিনি জানান, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহেই শাহবাগে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করা, হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং বাস টার্মিনালগুলোর স্থানান্তরের মাধ্যমে ঢাকাকে একটি যানজটমুক্ত আধুনিক তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ