তিন মাসেই সাড়ে ছয়শত প্রাণহানি: হামের লাগামহীন প্রকোপে বাড়ছে উদ্বেগ

নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৫ জুন) : দেশে সংক্রামক ব্যাধি হামের চোখ রাঙানি থামছেই না। দিন দিন পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৪টি শিশু।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে আজ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ৬৫২ জনে। সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগের পরও সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বমুখী গতিকে এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর ভিড়, যা দেশের সার্বিক শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে এক বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একদিনে মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে রয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫৬০ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯২ শিশুর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে এক হাজার ৫২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার ৯৫১-তে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৫ জনের। সব মিলিয়ে চলতি প্রাদুর্ভাবের সময়ে দেশে ১০ হাজার ৩২৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭০ হাজার ৫৭৯ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৬৬ হাজার ৮৪১ জন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (সিডিসি) এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা, আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার অন্তত ৫০টির বেশি দেশে বর্তমানে হামের সংক্রমণ বা প্রাদুর্ভাব চলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো, গুয়েতেমালা, যুক্তরাজ্য, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, কঙ্গোসহ বেশ কয়েকটি দেশে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কভিড-১৯ মহামারির পর নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, টিকাদানে অনীহা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যের কারণে বিশ্বজুড়ে হাম আবারও জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। দেশের সব জেলা ও উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ