যুদ্ধের ছায়ায় গাজায় বিবর্ণ ঈদ, তাঁবুর জীবনই এখন ফিলিস্তিনিদের নিয়তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২৮ মে) : বিশ্বজুড়ে ঈদ যখন বয়ে আনে অনাবিল আনন্দ, নতুন পোশাকের সুবাস আর প্রিয়জনদের মিলনমেলা, তখন ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। চলমান সংঘাত, অনবরত বাস্তুচ্যুতি আর তীব্র অর্থনৈতিক অনটনের কবলে পড়ে গাজাবাসীর জীবন থেকে ঈদের সব খুশি যেন উবে গেছে। এবারের ঈদও তাদের কাটাতে হচ্ছে বিষাদ আর কান্নার মধ্য দিয়ে।
“চারিদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ আর হারানোর বেদনা। এমন পরিস্থিতিতে ঈদের আনন্দ উদযাপন করার মতো মানসিকতা বা সামর্থ্য—কোনোটিই অবশিষ্ট নেই গাজার সাধারণ মানুষের।”
মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে লাখো ফিলিস্তিনির আশ্রয় এখন অস্থায়ী তাঁবুতে। উৎসবের দিনটিতেও তাদের প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে বেঁচে থাকার ন্যূনতম রসদ জোগাতে। ফলে উৎসবের চিরাচরিত আমেজকে বিদায় জানিয়ে কেবল টিকে থাকার সংগ্রামেই কাটছে তাদের এবারের ঈদ।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ঘরবাড়ি হারিয়ে অধিকাংশ মানুষ এখন অস্থায়ী তাঁবু ও আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন। অনেক পরিবার ঈদের দিনও পর্যাপ্ত খাবার, নতুন পোশাক কিংবা কোরবানির পশু জোগাড় করতে পারেনি।
গাজার বাসিন্দারা বলছেন, ‘ঈদ তাঁবুতে আসে না’। যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিক জীবন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। শিশুদের মুখেও নেই ঈদের হাসি। অনেকেই স্বজন হারানোর শোক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
খান ইউনিসসহ বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের পাশেই ঈদের জামাত আদায় করতে দেখা গেছে মুসল্লিদের। বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে বা বিধ্বস্ত মসজিদের পাশে নামাজ আদায় করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অবরোধে গাজার অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে ঈদের কেনাকাটা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ঈদের আগের দিনও গাজায় ইসরায়েলি হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যমতে, চলমান সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা
মনোয়ারুল হক/
