সংরক্ষিত নারী আসন: প্রথম দিনে ৫৪৪ মনোনয়ন ফরম বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১১ এপ্রিল) : সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রথম দিনেই নয়াপল্টন কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেত্রীদের ভিড়ে সরগরম ছিল পুরো এলাকা। প্রথম দিনেই দলটির ৫৪৪টি ফরম বিক্রি হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত ৩৬ আসনের বিপরীতে এই বিপুলসংখ্যক প্রার্থী আবেদন করেছেন।

বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, প্রার্থীরা ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আওয়ামী শাসনামলে যারা নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই প্রার্থী বেছে নেওয়া হবে।’ সংরক্ষিত আসনে যোগ্যতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৬ দশমিক ১৭ বছরের আন্দোলন ও সংসদীয় দক্ষতা বিবেচনা করবে পার্লামেন্টারি বোর্ড। বোর্ডের সিদ্ধান্ত সবাইকে মানতে হবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম ফরমটি তুলে দেওয়া হয় জেরিন দেলোয়ার হোসেনের হাতে। দ্বিতীয় ফরমটি পান ফাতেমা আসাদ। এরপর নিপুণ রায় চৌধুরী, আরিফা সুলতানা রুমা, সাবিনা খান, শওকত আরা আখতার ও রোকেয়া চৌধুরী বেবী ফরম সংগ্রহ করেন। মিনা বেগম, ফরিদা ইয়াসমিন, মেহেরুন্নেসা হক ও পেয়ারা মোস্তফাও এ দিন ফরম নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহদপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন ও তারিকুল ইসলাম তেনজিং।

তালিকায় আরও আছেন শিরিন সুলতানা, হেলেন জেরিন খান, কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন ও রিজিয়া পারভীন। ফরম নিয়েছেন সানজীদা ইসলাম তুলি, শাহজাদী পাঁপড়ি ও শাহিনুর বেগম সাগর। এ ছাড়া আসমা আজিজ, রেহানা শিরিন, জাহানারা খাতুন, রহিমা বেগম ও ফরিদা আকতার ফরম সংগ্রহ করেছেন। ডা. লুসি খান, বিবি হাজেরা ও নাজমা সুলতানা ঝংকারও প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন। আজ শনিবার ও আগামীকাল রবিবারও ফরম বিক্রি চলবে।

নয়াপল্টনে আসা নেত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়ে ২ হাজার টাকা জমা দিয়ে ফরম সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে তৃণমূল নেত্রী, শিক্ষক, আইনজীবী ও সাবেক ছাত্রনেত্রীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। ডা. খোন্দকার আখতারা খাতুন লুনা বলেন, ‘পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তারেক রহমানের দর্শনেই আমরা এগিয়ে যাব।’ আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, ‘বিগত আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম। আশা করি দল সঠিক মূল্যায়ন করবে।’

শাহিনুর বেগম সাগর বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে লড়েছি। এবার মূল্যায়নের প্রত্যাশা করছি।’ অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে আহত হয়েও সক্রিয় ছিলাম। প্রার্থীর ত্যাগ ও শিক্ষা দেখে যেন মনোনয়ন দেওয়া হয়।’

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, প্রার্থীর আনুগত্য ও রাজপথের সক্রিয়তা হবে প্রধান মাপকাঠি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ্যদের বাছাই করা হবে। নয়াপল্টন কার্যালয়ে নিরাপত্তা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক দল তৎপর রয়েছে। ফরম জমা শেষে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবে পার্লামেন্টারি বোর্ড।

মাঠপর্যায়ের কর্মীরা মনে করেন, শিক্ষিত ও নিবেদিত নারীরা সংসদে গেলে দলের অবস্থান শক্তিশালী হবে। এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নারীনেত্রীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। রাজপথের পরীক্ষিত নেত্রীরাই সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখবেন বলে দল আশা করছে। সব মিলিয়ে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এই দৌড় এখন তুঙ্গে। আগামী দুই দিন ভিড় আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যোগ্য প্রার্থীরাই শেষ পর্যন্ত দলীয় টিকিট পাবেন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ