শ্রীপুরে অগ্নিকাণ্ডের শিকার ভুক্তভোগীর কাছে সাংবাদিকের চাঁদা দাবির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক (শ্রীপুর), এবিসিনিউজবিডি, (২৫ মে) : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চৌগাছি গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের শিকার এক ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে সংবাদ প্রকাশের নামে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে আব্দুর রশিদ মোল্যা নামে স্থানীয় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দেওয়ায় ওই ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী তারিকুল ইসলাম চৌগাছি গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ মোল্যা নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ‘দৈনিক মাতৃভূমি’ নামের একটি ফেসবুক পেজ বা আইডি থেকে এই অপপ্রচার চালান বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী তারিকুল ইসলাম জানান, গত ২২ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ রাত আনুমানিক ২:৩০ মিনিটের দিকে উপজেলার নলখোলা গ্রামের এনাম ওরফে আমির খান নামের এক ব্যক্তি তার পেঁয়াজ রাখার ঘর ও গবাদি পশুর বিচালি (খড়) এর খামাল বা গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়। টের পেয়ে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করলে অভিযুক্ত এনাম পালিয়ে যায়।
পরদিন ২৩ মে অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীদের মতো সংবাদ সংগ্রহের জন্য তারিকুল ইসলামের বাড়িতে যান সাংবাদিক আব্দুর রশিদ মোল্যা। তিনি পুড়ে যাওয়া ঘর ও বিচালীর ভিডিও ধারণ করার পর ভুক্তভোগী তারিকুলের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। আব্দুর রশিদ মোল্যা ভুক্তভোগীকে বলেন, “তারিকুল ভাই, আপনার বাড়ির এই নিউজ প্রচার করতে ১০ হাজার টাকা লাগবে।”
ভুক্তভোগী পরিবারটি আকস্মিক এই বিপদের মুখে টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে, ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুর রশিদ মোল্যা ‘দৈনিক মাতৃভূমি’ নামক ফেসবুক আইডি থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী তারিকুল ইসলাম বলেন,”আমরা সাধারণ মানুষ বিপদে পড়লে বিচার পাওয়ার আশায় প্রশাসন ও সাংবাদিক ভাইদের দ্বারস্থ হই। আর সেই সাংবাদিক ভাইয়েরাই যদি আমাদের এভাবে ব্লাকমেইল করে বিপদের মুখে ঠেলে দেন, তাহলে আমরা কার কাছে গিয়ে বিচার চাইবো? আমি শ্রীপুর ও মাগুরাবাসীর কাছে এই ঘটনার বিচার দিলাম। আপনারাই এই কথিত সাংবাদিক আব্দুর রশিদ মোল্যাকে বিচারের মুখোমুখি করবেন।”
এদিকে বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী তারিকুল ইসলাম নিজেই বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে নলখোলা গ্রামের এনাম ওরফে আমির খানসহ আরও অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বিপদে পড়া সাধারণ মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি এবং অপপ্রচার চালানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মনোয়ারুল হক/
