জমে উঠেছে ঢাকার কুরবানির হাট, মাঝারি দেশি গরুর চাহিদা তুঙ্গে

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২৬ মে) : পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার পশুর হাটগুলো এখন উৎসবমুখর ও জমজমাট। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা। সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পশু কিনতে পেরে যেমন খুশি ক্রেতারা, তেমনি ভালো বিক্রিতে মুখে হাসি ফুটেছে বিক্রেতাদেরও। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পশুর ডাক আর দরদামে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ।

এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে সর্বমোট ২৭টি হাট বসেছে। এর মধ্যে উত্তর সিটিতে ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটিতে ১১টি হাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বরাবরের মতোই ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাট।

এছাড়া ঢাকা দক্ষিণের পোস্তগোলা, শাহজাহানপুর, আফতাবনগর, বনশ্রী, আমুলিয়া ও গোলাপবাগ এবং উত্তরের মিরপুর, কালশী, উত্তরা দিয়াবাড়ি, বছিলা ও বসুন্ধরা সংলগ্ন এলাকাগুলোর অস্থায়ী হাটগুলোতেও পশু বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হয়েছে। কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজবাড়ী ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খামারিরা ট্রাক বোঝাই করে পশু নিয়ে আসছেন রাজধানীতে।

হাটের সার্বিক চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মূল লক্ষ্য মাঝারি আকারের দেশি গরু। বড় গরুর দাম কিছুটা চড়া থাকায় মাঝারি গরুর দিকেই ঝুঁকছেন বেশিরভাগ মানুষ।

যশোরের এক খামারি জানান, গোখাদ্য ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় পশুর দাম গতবারের চেয়ে কিছুটা বেশি মনে হতে পারে, তবে তা ক্রেতাদের নাগালের বাইরে নয়। বিক্রেতারা আশা করছেন, ঈদের শেষ দুদিনে বিক্রি আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

সোমবার সকালে কিছুটা বৃষ্টি হওয়ায় ডেমরা ও সারুলিয়ার হাটগুলোতে সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল। তবে তা ক্রেতাদের উৎসাহে ভাটা ফেলতে পারেনি। ডেমরার ঐতিহ্যবাহী সারুলিয়া ও আমুলিয়া মডেল টাউন হাটে নদী ও সড়কপথে অনবরত পশু আসছে।

হাট কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে:

  • সারুলিয়া হাট: ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার গরু উঠেছে।
  • আমুলিয়া মডেল টাউন: বিশাল জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই হাটে ১০ হাজারেরও বেশি গরু রয়েছে। ক্রেতা ও পাইকারদের সুবিধার্থে এখানে রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

হাটের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জাল নোটের কারবার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি বড় হাটগুলোতে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ। এছাড়া পশু ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে মাত্র ৫ মিনিটে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার বিশেষ সুযোগও দিচ্ছে কিছু ব্যাংক।

পশুর বাজার পরিদর্শন শেষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, এবার বাজারে কুরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই। দেশীয় খামার থেকেই সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ সম্ভব। অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে যাতে কোনো পশু আসতে না পারে, সে জন্য বিজিবি ও পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান: এ বছর দেশে কুরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। অন্যদিকে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ [লক্ষ] ৬ হাজার ৩৩৪টি। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ