চট্টগ্রামে আজিম গ্রুপের পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর
চট্টগ্রাম ব্যুরো, এবিসিনিউজবিডি, (২ মে) : চট্টগ্রাম নগরীর মোহরা এলাকায় অবস্থিত আজিম গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজের মজুরি বা ওভারটাইম (ওটি) ভাতা না দেওয়ায় মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২মে) সকাল ১০টা থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে শ্রমিকরা তাদের পাওনা ওভারটাইম ভাতার দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। আজ সকালে কাজে যোগ দেওয়ার পর শ্রমিকরা আবারও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। মালিকপক্ষ দাবির বিষয়ে কোনো সদুত্তর না দেওয়ায় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সাধারণ শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ও জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন এবং উৎপাদন বন্ধ করে দেন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের দাবি, মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে তারা হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ওভারটাইম করলেও তাদের ন্যায্য পাওনা পাচ্ছেন না। বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ওভার টাইমের টাকা পরিশোধে কর্তৃপক্ষ গড়িমাসি করছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ন্যায্য পাওনা চাইতে গেলে উল্টো তাদের চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়া হয়।
শ্রমিক আলাউদ্দিন বলেন, আমাদের বেতন না দিয়ে কাজ করাতে চান কর্তৃপক্ষ। আমরা বেতন দাবি করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ফলে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে, কারখানার গ্লাস ভাঙচুর করেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিল্প পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। পুলিশ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম শীল্প পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, মোহরায় অবস্তিত আজিম গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মূলত অতিরিক্ত কাজের মজুরি বা ওভারটাইম (ওটি) ভাতা নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে শনিবার সকাল ১০টা থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বেলা ১টার দিকে নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য বৈঠকে বসা হয়েছে, সমাধানে এসে কারখানা চালু করার চেষ্টা করছি আমরা।
মনোয়ারুল হক/
