৪ মূল স্তম্ভে সংস্কার ও নতুন ১ উপাদানে শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১৬ জুন) : দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক আমূল ও টেকসই পরিবর্তনের বার্তা দিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রচলিত কারিকুলাম, শিক্ষকতার মান এবং অবকাঠামোসহ শিক্ষার প্রধান চারটি মূল স্তম্ভে বড় ধরনের সংস্কার আনা হচ্ছে। এর পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন একটি বিশেষ উপাদানও।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর অভিজাত র্যাডিসন ব্লু হোটেলে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থা ‘কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন’ আয়োজিত ‘কেমব্রিজ প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ যুগান্তকারী ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে এই আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা কাঠামোকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে কারিকুলামের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, বিভিন্ন শিক্ষা ধারার সমন্বয় এবং প্রযুক্তি তথা এআই ও ফিউচার জবসের সংযোজনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি সুস্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি ভিশন নির্ধারণ করেছে। এই ভিশনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষাকে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা।’
শিক্ষা ধারার বৈচিত্র্য ও সমতার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে ২৭টিরও বেশি ধরনের শিক্ষা ধারা বিদ্যমান। এসব ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।’
তিনি বলেন, ‘মাদরাসা, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমমানের সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকাকে অগ্রগণ্য উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘চাকা ছাড়া যেমন গাড়ি চলতে পারে না, তেমনি শিক্ষক ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থা চলতে পারে না।’
দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের জন্য বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে কেমব্রিজের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মনোয়ারুল হক/
