শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব, মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৭ আগস্ট) : শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলা এবং প্ল্যাটফর্মে শিশু যৌন শোষণসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখার অভিযোগে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত এই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারের এই রায়টি একটি যুগান্তকারী মামলার দ্বিতীয় পর্বের অংশ হিসেবে এসেছে। মামলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটি গত মার্চে হেরে যায়। সে সময় বিচারকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, সংস্থাটি জেনেশুনে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে এবং তাদের প্ল্যাটফর্মে শিশু যৌন শোষণ সম্পর্কে যা জানত, তা গোপন করেছে। বিচারকরা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা আরোপ করেন।

বৃহস্পতিবারের এই রায়ে সেই জরিমানার সঙ্গে আরও একটি জরিমানা যোগ করা হয়েছে। এর ফলে মেটার মোট জরিমানার পরিমাণ ৯৪২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আদালতের রায় অনুযায়ী, এই জরিমানার সিংহভাগ অর্থ অর্থাৎ ৪২০ মিলিয়ন ডলার নিউ মেক্সিকোর তরুণদের চিকিৎসাসেবার পেছনে ব্যয় করা হবে। বাকি অর্থ আগামী পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্ক্রিনিং-সেবায় ব্যবহার করা হবে।

২০২৩ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন পাচার ও ক্ষতিকর বিষয়বস্তু ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সামনে আসে। মেটার সাবেক বেশ কয়েকজন মডারেটর জানান, শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত ক্ষতিকর বিষয়বস্তু চিহ্নিত করা হলেও অনেক সময় তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হতো না।

গত মে মাসে শুরু হওয়া মামলার এই দ্বিতীয় পর্বে প্রসিকিউটররা মেটার প্ল্যাটফর্মে মৌলিক পরিবর্তন আনার দাবি জানান। এর মধ্যে আসক্তি সৃষ্টিকারী বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ, বয়স যাচাই প্রক্রিয়া উন্নত করা এবং শিশু যৌন শোষণ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। আদালত মেটাকে নিউ মেক্সিকোতে তাদের বয়স-নিশ্চয়তা সরঞ্জামের উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ফেডারেল শিশু গোপনীয়তা আইনের কারণে ১৩ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে সরাসরি বয়স যাচাইয়ের সরঞ্জাম প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শুধু মেটার ওপর এই বাধ্যবাধকতা আরোপ করা অন্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অন্যায্য হতে পারে বলে আদালত উল্লেখ করেন।

নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন তরুণদের বিপন্ন করে মুনাফা অর্জন করতে না পারে, সেটাই ছিল এই আইনি লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, মেটার একজন মুখপাত্র আদালতের এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে অবিলম্বে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। সূত্র : আল জাজিরা

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ