স্থানীয় নির্বাচন ও আ.লীগের ভোটের অধিকার নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১৫ জুন) : জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় আজ মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেল স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।
মূলত দুটি জ্বলন্ত প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন রুমিন ফারহানা— এক, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঠিক কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হচ্ছে? এবং দুই, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না? তবে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়ার স্পর্শকাতর বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে গেছেন মন্ত্রী।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা চলাকালে রুমিন ফারহানা দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জেলা পরিষদগুলোতে দলীয়ভাবে প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার চার মাস পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া আমলা বা প্রশাসকদের দিয়ে জেলা চালানো সরাসরি সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা মাঠপর্যায়ের বিভ্রান্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মহলে এখন নানা গুঞ্জন চলছে। কেউ বলছেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ভোট দিতে পারবে না, কেউ বলছেন নির্দলীয় প্রতীকে ‘ক্লিন ইমেজ’ বা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। মাঠের রাজনীতি সচল রাখতে এবং জনগণের বিভ্রান্তি দূর করতে এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সরাসরি ও স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেন তিনি।
সংসদে রুমিন ফারহানার তোলা এতসব প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেশ সতর্ক ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। আওয়ামী লীগের ইস্যুটি পুরোপুরি এড়িয়ে গিয়ে তিনি কেবল আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচন আয়োজনে সরকারের প্রস্তুতি চলছে।
মন্ত্রী বলেন, আমি দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে। আমরা যে সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনায় একমত হয়েছি, সেই অনুযায়ীই সঠিক সময়ে ভোটের আয়োজন সম্পন্ন করা হবে।
মনোয়ারুল হক/
