যতদিন প্রাণ থাকবে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব : প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রাম ব্যুরো, এবিসিনিউজবিডি, (১৩ জুন) : জনকল্যাণ ও দেশের উন্নয়নই বর্তমান সরকারের একমাত্র লক্ষ্য বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনই আমাদের পথচলার মূল চালিকাশক্তি। যতদিন দেহে প্রাণ আছে, এই দেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণে অবিরাম কাজ করে যাব।”
আজ সকালে পিএমখালি ইউনিয়নে ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় সাধারণ মানুষের অধিকারের রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপির ক্ষমতার মূল উৎস অন্য কেউ নয়, স্বয়ং দেশের জনগণ। এই সরকারের একমাত্র ব্রত হলো প্রতিটি নাগরিকের ভাগ্য পরিবর্তন করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।”
সদ্য ঘোষিত বাজেটের ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, “আপনারা সংবাদপত্রে নিশ্চয়ই দেখেছেন, বাজেট পেশের পর এখন পর্যন্ত বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা চিন্তা করে চাল, ডাল, তেল ও লবণসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর থেকে সব ধরনের ট্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। আমাদের লক্ষ্য একটাই—দেশের মানুষ যেন শান্তিতে ও ভালো থাকতে পারে।”
জনকল্যাণমুখী এই বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের অযৌক্তিক বিরোধিতার তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী জোটের ‘গণবিরোধী বাজেট’ স্লোগানের জবাবে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, যে বাজেটে সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের ট্যাক্স কমানো হলো, সেটিও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। অথচ মদ্যপান কিংবা ধূমপানের মতো ক্ষতিকর দ্রব্যের ওপর ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। তাহলে বিরোধী দলের আসল উদ্দেশ্যটা কী, তা নিশ্চয়ই এখন আপনাদের কাছে পরিষ্কার?
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিরোধী দলের লক্ষ্য নয়। বরং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে একটি অস্থিতিশীল ও অশান্ত পরিবেশ তৈরি করাই তাদের মূল রাজনৈতিক এজেন্ডা।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন।
এদিকে বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, এখানে কেনো এসেছি বলেন তো? পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে। আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে এই খাল খনন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই খাল খননের ফলে ৪০ হাজার মানুষের উপকার হবে। উপকৃত হবে সাড়ে ৮ হাজার কৃষক। এ কারণে আমারা আগামী পাঁচ বছরে ২৩ হাজার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু কৃষির সাথে সাথে আমাদেরকে শিল্প-বাণিজ্যেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্প- বাণিজ্যের উন্নতি ঘটলে আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। চাকরি বাকরি, ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে। এ কারণে যে সকল দ্রব্য দেশে উৎপাদিত হয় অথচ একই জিনিস যেগুলো বিদেশ থেকে আসে সেগুলোর ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি। যাতে করে দেশে উৎপাদিত দ্রব্যটি যারা উৎপাদন করে, সেই শিল্প কারখানাটি সাপোর্ট পায়, তার ব্যবস্থা আমরা এই বাজেটের মধ্যে রেখেছি। এটিও বিরোধী দলের পছন্দ নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই, এদেশের মালিক আপনারা। দেশের মালিক কোন রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক কোন পরিবার নয়, দেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগণ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ আমাদের সকলের। এই দেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। সেজন্যই আমরা বলি এই দেশকে গড়লে আমরাই ভালো থাকবো,আমাদের সন্তানরাই শান্তিতে থাকতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘এই দেশকে যদি আমরা গড়তে না পারি তাহলে আমাদের সন্তানরা দুঃখ কষ্টে থাকবে। কেউ কি চায় নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? কেউ আমরা চাই না। সেজন্যই আমরা একটি কথাই বলি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, স্থ্নাীয় নেতা হারুনুর রশীদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে এই খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী মুষল বৃষ্টির মধ্যেই ফ্লাইট থেকে নেমে সড়ক পথে পিএমখালীতে আসেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই নিজের হাতে কোদাল দিয়ে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছের চারা রোপণ করেন।
মনোয়ারুল হক/
