আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১১ জুন) : রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত খ্যাতনামা ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল’ এক বড়সড় শাস্তির মুখে পড়লো। চিকিৎসায় অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে হাসপাতালটির লাইসেন্স চূড়ান্তভাবে বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS)।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অত্যন্ত বেদনাদায়কভাবে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যু হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সম্প্রতি সেই কমিটির জমাদানকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালের মারাত্মক গাফিলতির প্রমাণ মেলে।
ডা. শেখ মহিউদ্দিনের মালিকানাধীন আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সংঘটিত ওই ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে গত ৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং ৭ জুন বিকেল ৫টার মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময় বাড়ানোর আবেদন করলে ৯ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশে বলা হয়, ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে জবাব ও ব্যাখ্যা জমা দেয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি। ফলে আইন অনুযায়ি হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়টি অবহিত করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, র্যাব সদর দপ্তর ও রমনা থানাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে সর্বশেষ এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
মনোয়ারুল হক/

