বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার আগেই ধাক্কা খেল তৃণমূল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২ মে) : বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। হাইকোর্ট সেই মামলা খারিজ করে দেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল।
শনিবার (২ মে) সকালে বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়।
তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করছেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। নির্বাচন কমিশনের হয়ে রয়েছেন আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু।
আদালতে কপিল সিব্বল বলেন, ‘আমাদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে নোটিস জারি করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা সেটা জানতে পারি ২৯ তারিখে। কমিশন আশঙ্কা করছে- প্রত্যেকটি বুথে নাকি সমস্যা বা অশান্তি হতে পারে। কিন্তু এই ধারণা তারা কোথা থেকে পাচ্ছে? এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
কপিল বলেন, ‘গণনায় প্রতিটি টেবিলে ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের একজন কর্মী রয়েছেন, যাদের মাইক্রো অবজার্ভার বলা হয়। তা হলে আবার কেন আরও একজন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী প্রয়োজন? সার্কুলারেই বলা রয়েছে, একজন রাজ্য সরকারের কর্মী থাকা উচিত। কিন্তু তারা কোনো রাজ্য সরকারের মনোনীত প্রতিনিধিকে নিয়োগ করছে না। সিইও বলেছেন, বিভিন্ন মহল থেকে গণনা প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এটি সরাসরি রাজ্য সরকারের দিকেই আঙুল তুলছে। কিছু না কিছু তথ্য তো থাকা উচিত। প্রতিটি বুথে যে আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, সেই তথ্য কোথায়? তারা এই বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। আর কেন আমাদের জানানো হল না যে, সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিকে রাখা হবে?’
এর পর বিচারপতি বাগচী প্রশ্ন করেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে আলোচনা করতে হবে সেটা কোথায় বলা রয়েছে?’
জবাবে কপিল জানান, সাধারণত তাদের জানানো হয়ে থাকে এই সংক্রান্ত তথ্য।
বিচারপতি বলেন, ‘কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার এবং কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট কেন্দ্রীয় সরকারেরও হতে পারেন, আবার রাজ্য সরকারেরও হতে পারেন। সুতরাং, যখন এই বিকল্পটি নিয়মেই রয়েছে, তখন আমরা বলতে পারি না যে এই নোটিফিকেশনটি বিধিবিরোধী। কমিশন সিদ্ধান্ত নিতেই পারে দুজনই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী হবেন। এতে কোনো নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে না।’
তৃণমূলের পক্ষে এরপর কপিল দাবি করেন, সার্কুলার মেনে কাজ করা হচ্ছে না।
বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘যদি সার্কুলারে এমনটা বলা থাকতো, তবুও আমরা তাতেও কোনো অন্যায় খুঁজতে পারতাম না। কারণ, নিয়মেই বলা আছে- কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকারের কর্মীকে এই পদে নিয়োগ করা যেতে পারে।’
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, গণনা সংক্রান্ত তৃণমূলের মামলায় তারা এখনই কোনো নির্দেশ দিতে রাজি নয়। কমিশন নিজের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কাজ করতে পারবে। অতিরিক্ত কোনো নির্দেশের প্রয়োজনীয়তা নেই আপাতত।
কমিশনের তরফে আইনজীবী বলেন, ‘গণনায় রিটার্নিং অফিসারের সর্বোচ্চ ক্ষমতা রয়েছে। তিনি রাজ্যসরকারের ক্যাডারেরই আধিকারিক। তাছাড়া, প্রত্যেক প্রার্থীর নিজস্ব কাউন্টিং অ্যাজেন্ট গণনায় থাকবেন। তাই মামলায় যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
কমিশনের পক্ষে থেকে আদালতে জানানো হয়, গত ১৩ এপ্রিল তারা যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, সেই অনুযায়ী কাজ হবে। তাই আদালত অতিরিক্ত আর কোনো নির্দেশ দেয়নি। আপাতত আর কোনো নির্দেশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মনে করেছেন বিচারপতিরা।
ভারতের সর্বোচ্চ আদালত আজ জানায়, তৃণমূলের যুক্তি, একজন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে যাবে- এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। আদালত আরও উল্লেখ করে যে, এই ভ্রান্তির মূলেই রয়েছে সেই অনুমানটি নিজেই; বরং তৃণমূল কংগ্রেসের উচিত ‘সরকারি কর্মচারীদের কিছুটা আস্থা দেওয়া’। সূত্র: আনন্দবাজার, এনডিটিভি
মনোয়ারুল হক/
