বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৮ অক্টোবর): এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য যতক্ষণ পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ জাতীয়করণ করা না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি বা নীতিগত কোনো ধরনের বাধা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শিক্ষকতা এমন একটি মহৎ পেশা, যা অন্য সব পেশার জন্ম দেয়। দেশের বিভিন্ন পেশায় যুক্ত ব্যক্তিরা শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও স্বীকৃতি নিয়েই আজ এ পর্যায়ে এসেছেন।’
স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৬ বছর পরও শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘বহু আন্দোলন ও মতপার্থক্যের পরও আজও দেশের সম্মানিত শিক্ষকদের রোদ-বৃষ্টির মধ্যে নিজেদের দাবি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়াতে হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশে শিক্ষকদের যেভাবে সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, আমাদের দেশে শুরু থেকেই তাতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।’
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শাহে আলম জানান, দীর্ঘ আন্দোলনের পর একটি স্বৈরাচারী সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে এবং সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। এই অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষা খাতকে ঢেলে সাজাতে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসর বা পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্যোগ নিয়ে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছেন এবং প্রায় এক লাখ শিক্ষককে এর আওতায় আনা হয়েছে। তবে প্রথম দিকে কিছুটা তারতম্য হওয়ায় ২০২৬ সালের অবসরে যাওয়া শিক্ষকরা যতটা উপকৃত হয়েছেন, ২০২২ সালের শিক্ষকরা তুলনামূলক কম লাভবান হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং সবাইকে সমভাবে এই সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
বেসরকারি শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয়করণের দাবি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি দীর্ঘদিনের, আর এই দাবি তো আমার নিজেরও, কারণ আমি আপনাদেরই সাবেক সহকর্মী। আজকের এই সম্মেলন হলো বড় কোনো অর্জনের আগে প্রস্তুতি বা ওয়ার্মআপ সভার মতো।’
এ সময় শিক্ষক নেতাদের বড় পরিসরে একটি জাতীয় সমাবেশ আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘একটি বড় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করে আপনারা আপনাদের দাবিগুলো সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারেন। ঠাণ্ডা মাথায় প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে বললে এই জাতীয়করণের জন্য খুব বেশি নয়, বরং বছরে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার মতো প্রয়োজন হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মানবিক ও গণতান্ত্রিক মনের মানুষ; সবাই মিলে বোঝাতে পারলে তিনি শিক্ষকদের এই দাবির সঙ্গে অবশ্যই একাত্মতা প্রকাশ করবেন এবং তাঁর হৃদয় থেকেই হয়তো জাতীয়করণের কাঙ্ক্ষিত ঘোষণা আসতে পারে।’
সম্মেলনে শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবির প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘একজন শিক্ষক যেমন জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন, তেমনি স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগও চেয়েছেন। আমি বলতে চাই, এ মুহূর্তে দুটিই সম্ভব। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব থেকে বলছি—বেসরকারি শিক্ষকরা জাতীয়করণের আওতাভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।’
মনোয়ারুল হক/
