ডেঙ্গু নির্মূলে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৪ সেপ্টেম্বর): প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো ব্যাধি ডেঙ্গু প্রতিরোধে অতীতের ইতিহাস পর্যালোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দীর্ঘকাল ধরে মানুষের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে আসা এই রোগটি আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও এর নির্মূল প্রক্রিয়া বাস্তবে বেশ জটিল।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য কৌশলগত কর্ম পরিকল্পনাবিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চীনের প্রাচীন মেডিকেল এনসাইক্লোপিডিয়ার তথ্য টেনে ড. আবদুল মঈন খান জানান, ২৬৫ খ্রিস্টাব্দেও সে সময়ের নথিপত্রে ডেঙ্গুর সুনির্দিষ্ট উল্লেখ ও বিবরণ পাওয়া যায়। অতএব, এটি কোনো নতুন বা সাম্প্রতিক সমস্যা নয়, বরং বহু শতাব্দী ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে এর বিস্তার ঘটে চলেছে।
ডেঙ্গুর পুরোনো পরিচিতি ‘ব্রেকবোন ফিভার’ বা হাড়ভাঙা জ্বর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে এই রোগে আক্রান্তদের শরীরে তীব্র জয়েন্ট ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিত। সে যুগে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না থাকায় সাধারণ মানুষ ভুলবশত একে অপদেবতা বা অলৌকিক প্রভাব বলে মনে করত।
চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির মূল্যায়ন করতে গিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় চলতি বছর আক্রান্ত ও মৃত্যুর গ্রাফ কিছুটা নিম্নমুখী হলেও আত্মতুষ্টির বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়টিকে ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বা পিক পিরিয়ড হিসেবে অভিহিত করে তিনি জানান, নভেম্বর মাস পর্যন্তও এর প্রাদুর্ভাব উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাই বর্তমান সময় থেকেই জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।
শুধুমাত্র চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল না থেকে রোগ প্রতিরোধের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করার আহ্বান জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ প্রবাদটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সব সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থাকে একযোগে ও সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেন।
উক্ত সেমিনারে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান এবং প্রখ্যাত কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মনোয়ারুল হক/
