সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১২ সেপ্টেম্বর): দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির পেছনে কোনো ধরনের অন্তর্ঘাত বা নাশকতার হাত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার গভীর কোনো ষড়যন্ত্র চলছে কিনা, তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবু হানিফ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জাকির হোসেন। সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট এবং জনস্বার্থের নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জোটের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের গ্যাস সংকট নিরসনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার কারণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। মহেশখালীর রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রমেও ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তবে সংকট উত্তরণে সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং খুব দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সরকার গৃহীত বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ফ্যামিলি কার্ডসহ নানামুখী উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। অন্যদিকে উত্তর জনপদে ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে সৃষ্ট মরুকরণ ও ভূগর্ভস্থ পানির সংকট মোকাবিলায় পুনরায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গত ছয় মাসে এক হাজার কিলোমিটারসহ আগামী পাঁচ বছরে মোট বিশ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে। ঠিক এমন সময়েই এসব ইতিবাচক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে কোনো কুচক্রী মহল মাঠে নেমেছে কি না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, রক্তপিপাসু ও ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ অতীতে হাজারো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, নিষ্পাপ শিশুদের জীবন হরণ করেছে। তাদের সেই রাজনৈতিক ডিএনএ-র সাথে খুন ও দমনপীড়ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। হাজারো মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই দলটির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরে আসার যেকোনো স্বপ্ন দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। ফ্যাসিবাদ যাতে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য দেশের সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র তথা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ড. মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দিন পারভেজ, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান আহসান হাবিব লিংকন, ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরী, ইউনাইটেড লিবারেল পার্টির চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান এমএ বাশার, পিএনপির চেয়ারম্যান ফিরোজ মোহাম্মদ লিটন, নয়া গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান মাস্টার আবদুল মান্নান এবং ইসলামী ঐক্য জোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আমীনসহ জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মনোয়ারুল হক/

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ