গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: এলজিআরডি মন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৩ সেপ্টেম্বর): গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে মজবুত করতে হলে গ্রামীণ ও তৃণমূল পর্যায় থেকে তাকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে। বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিকল্প নেই। বিপুল এই জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকারকে প্রকৃত অর্থে গতিশীল করতে বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে পারলে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বহুগুণ বেড়ে যায়। এ ছাড়া একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন, গ্রামীণ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনস্বার্থে জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং নারী ক্ষমতায়নে দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
পরে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে জনমুখী করার নানা দিক নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সচ্ছলতা আনা, ক্ষমতার সঠিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং তৃণমূলের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দুই দেশের যৌথ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও প্রশস্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মনোয়ারুল হক/
