ব্রিকসে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার

ভোলা প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, (১৪ সেপ্টেম্বর): ভারতের ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রোটোকল অনুযায়ী যথাযথ মর্যাদা দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ব্রিকস প্রসঙ্গে স্পিকার আরও জানান যে, বাংলাদেশ এখনো এই জোটের সদস্যপদ পায়নি এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো স্পষ্ট নীতিমালা প্রকাশ করা হয়নি। বিগত সরকারের আমল থেকেই ব্রিকসে যুক্ত হওয়ার আলোচনা চললেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে অন্য পক্ষ থেকেও উল্লেখযোগ্য কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সর্বদা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে ইচ্ছুক। তবে এই সম্পর্ক অবশ্যই হতে হবে পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব এবং সমমর্যাদার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অতীতে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে যে ধরনের অতি-নৈকট্যের কথা বলা হতো, বর্তমান প্রশাসন সে ধরনের সম্পর্কে বিশ্বাসী নয়। কূটনৈতিক চ্যানেলে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার প্রসঙ্গে স্পিকার উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদী অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। মাত্র সাত মাস বয়সী এই সরকারের পক্ষে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো রাতারাতি সমাধান করা কঠিন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ চলমান বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে সংসদের আসন্ন অধিবেশনে প্রয়োজনীয় আইনগত ও সাংবিধানিক সংস্কার পাস করা সম্ভব হবে।

বর্তমান সংসদের কার্যকারিতা ও বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দল অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। তবে দ্রুত ক্ষমতা দখলের তীব্র বাসনা থেকে কেউ যেন দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া ভোলার স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্পিকার জানান, জেলার বিপুল গ্যাসের যথাযথ ব্যবহারের লক্ষ্যে এখানে সার কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো ভারী শিল্প স্থাপনের জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি, ভোলা সদর হাসপাতালের তীব্র চিকিৎসক সংকট নিরসন এবং একটি আধুনিক আইসিইউ ইউনিট চালুর বিষয়ে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ