রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা না চালাতে জেলেনস্কিকে আহ্বান ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (১৪ সেপ্টেম্বর): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তিনি যেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং ডিজেল প্রস্তুত ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গ্যালনপ্রতি গড়ে ৬ ডলার অতিক্রম করার পর তিনি এই আহ্বান জানান।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর এ ধরনের হামলার কারণে বিশ্বজুড়ে ডিজেলের মারাত্মক সংকট তৈরি হচ্ছে। গত কয়েকমাস ধরে ইউক্রেন দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে রুশ ভূখণ্ডে জ্বালানি রেশনিং করতে বাধ্য হচ্ছে প্রশাসন এবং মস্কো গত জুলাই মাস থেকেই ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক এই জ্বালানি সংকট কেবল ইউক্রেনীয় হামলার ফল নয়; বরং ইরান সংঘাতের কারণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়াও এর একটি বড় কারণ। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসছে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এমন এক রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে জ্বালানির এই বাড়তি দাম সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর জেলেনস্কির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইউক্রেনীয় নেতাকে রাশিয়ার জ্বালানি খাতে হামলা বন্ধের পরামর্শ দেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, জেলেনস্কিকে একটি সুনির্দিষ্ট কাজ করতে হবে, আর তা হলো রাশিয়ায় ডিজেল জ্বালানি ধ্বংস করার কার্যক্রম থেকে সরে আসা।
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, এই বিষয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে হামলা চালানোর মতো আরও বহু লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। তাই সরাসরি ডিজেল জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত না হানার আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ডিজেল ও গ্যাসোয়েলের নিট রপ্তানি গত আগস্ট মাসে এসে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের পরিমাণের তুলনায় এক-চতুর্থাংশের নিচে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, কিয়েভের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, রাশিয়ার এই তেল ও জ্বালানি সম্পদ দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেনীয় আগ্রাসনে মস্কোর সামরিক কার্যক্রমে মূল অর্থায়ন এবং লজিস্টিক জোগান দিয়ে আসছে। ফলে জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা তাদের সামরিক কৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সূত্র: এনডিটিভি
