ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা চত্বরে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ, আহত ৭
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৪ আগস্ট) : রাজধানীর ঐতিহাসিক বকশীবাজার এলাকায় অবস্থিত সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া চত্বরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সংঘটিত এই সহিংসতায় মাদ্রাসার সম্মানিত অধ্যক্ষসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার জেরেপুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেল চারটার দিকে হঠাৎ করেই মাদ্রাসা চত্বরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়, যা মুহূর্তেই সংঘর্ষে রূপ নেয়। ক্যাম্পাস চত্বরের সীমানা পেরিয়ে সংঘর্ষটি মাদ্রাসার সামনের মূল সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। এই আকস্মিক সহিংসতায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হন সংবাদকর্মীও।
এই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত ব্যক্তিরা হলেন—মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক (৫০), মাদ্রাসার ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ (৩০), লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিছার উদ্দিন রাব্বি (২৭), ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি শামীম মাহমুদ (৩০), সমকালের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম (২৬), লালবাগ ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক জানে আলম (৪৮) এবং মাদ্রাসার ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল হোসেন মমিন (৩০)।
আহত ছাত্রদল নেতা নিছার উদ্দিন রাব্বি গণমাধ্যমকে অভিযোগ করে জানান যে তিনি ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নন। বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে নিছক আড্ডার উদ্দেশ্যে তিনি মাদ্রাসা চত্বরে অবস্থান করছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই শিবিরের একদল নেতা-কর্মী অতর্কিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের পেটাতে শুরু করে এবং নির্বিচারে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা আহতদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানান যে সানাউল্লাহর দুই পায়ে ও পিঠে গুরুতর আঘাত রয়েছে। এছাড়া রাব্বির বাম পায়ে ইটের আঘাত লাগার পাশাপাশি পড়ে গিয়ে বাম হাতেও মারাত্মক চোট লেগেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আহত সাংবাদিক নাজমুল ইসলামের পায়ে ইটের আঘাত এবং সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হকের মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। বর্তমানে আহতরা সকলেই ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিবিড় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সবশেষে, এই সংঘর্ষের সামগ্রিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে কিল-ঘুষির আঘাতে আহত হন ঢাকা কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সহসভাপতি রাইসুল ইসলাম (২৪)। তিনিও পরবর্তীতে ঢামেক হাসপাতালে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, তবে ক্যাম্পাসে থমথমে ভাব বিরাজ করছে।
মনোয়ারুল হক/
