যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তানই প্রধান মধ্যস্থতাকারী: ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৪ আগস্ট) : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ ও আলোচনার ক্ষেত্রে পাকিস্তানকেই প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করেছেন যে, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় চীন বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করলেও তারা নতুন কোনো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা প্রশমনে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরানের পক্ষ থেকে এই অবস্থান জানানো হলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলা স্থগিত করার ঘোষণা এবং নতুন আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ বার্তা আদান-প্রদান এবং প্রস্তাব বিনিময়ে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আস্থার ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি কাতার ও ওমানও আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে চীনকে নতুন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তা নাকচ করে ইরানি মুখপাত্র জানান, বেইজিংয়ের সঙ্গে তেহরানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তারাও অন্যান্য বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মতো সহযোগিতা করছে, যা নতুন কোনো মধ্যস্থতা নয়।
এরই অংশ হিসেবে গত কয়েক দিনে কাতার ও ওমানের পাশাপাশি পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও ইরানের কূটনৈতিক যোগাযোগ নিবিড় হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সাইয়্যেদ আসিম মুনির এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এছাড়া পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ হয়েছে, যেখানে তাকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেমসহ আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি বৈঠকের মধ্য দিয়ে বর্তমান সংলাপের ভিত্তি রচিত হয়েছিল। সেই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় জুনে সই হওয়া ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ এবং পরবর্তীতে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি ৬০ দিনের রোডম্যাপ চালুর কথা ছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনায় সেই প্রক্রিয়া কিছুটা হুমকির মুখে পড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার থেকে নতুন আলোচনা শুরুর দাবি করলেও, তেহরান জানিয়েছে যে বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না এবং তারা আঞ্চলিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে রাজনৈতিক উপায়েই সংকট সমাধানের পথেই অনড় রয়েছে। সূত্র: আরব নিউজ
