রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক গুঞ্জন, সংবিধান মেনেই হবে সিদ্ধান্ত

বিশেষ প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৪ জুলাই) : দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। বঙ্গভবন সূত্র ও বিভিন্ন প্রশাসনিক মাধ্যমে এই আলোচনার সত্যতা মিলেছে। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করা এই রাষ্ট্রপতির মেয়াদ স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সময়সীমার আগেই তাঁর বিদায়ের প্রস্তুতি চলছে।

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের দায়িত্ব পালনের সময়কালটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত ঘটনাবহুল। গণঅভ্যুত্থান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন—সবই ঘটেছে তাঁর দায়িত্বকালেই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনিই প্রথম রাষ্ট্রপতি, যিনি স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন পরবর্তী সময়ে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে প্রতিবাদ দেখা যায়।

সম্প্রতি বঙ্গভবনের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বেশ কিছু দিন ধরে নানা ধরনের জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ ডায়াবেটিস তাঁর শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটিয়েছে। বঙ্গভবনেও এক ধরনের বিদায়ি আবহ বিরাজ করছে।

তবে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম জানিয়েছেন, পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যেও বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রুটিন অনুযায়ী বঙ্গভবনে অফিস করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি পূর্বনির্ধারিত বেশ কয়েকটি মিটিংয়ে অংশ নেন। গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) বিকাল পর্যন্ত পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের কোনো তথ্য নেই বলে তিনি জানান।

এদিকে যে কোনো সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে যাচ্ছেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন-এমন গুজব ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য আসেনি বঙ্গভবন থেকে। প্রেস সচিবের মতে, পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য মেলেনি।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করতে চান, তবে তাকে স্পিকারের উদ্দেশ্যে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠাতে হবে। পরবর্তীতে অনুচ্ছেদ ৫৪ ও ১২৩ অনুসারে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত হিসেবে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগ চর্চা নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তিনি জানান, স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সম্পূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় স্পিকারের কাছে তা জমা দেবেন, এতে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কথিত কথোপকথন সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, তবে প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তদন্ত করা হতে পারে।

বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতির পরিবর্তনের আলোচনা গতি পেলেও, সার্বিক প্রক্রিয়া সংবিধানের ধারা ও রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ