সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা ও আওতা বাড়িয়েছে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৮ সেপ্টেম্বর): দেশের অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও ভাতার পরিমাণ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে এসব কর্মসূচির অর্থ বণ্টনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে উপকারভোগীদের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের সঙ্গে যাচাই-বাছাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত স্বার্থে অযোগ্য কোনো ব্যক্তির সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী হওয়ার সুযোগ অনেকাংশে বন্ধ হয়েছে।
তিনি জানান, আগের ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে বর্তমানে অনলাইনে সরাসরি আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে উন্মুক্ত যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের তালিকা তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।
সরকারি সহায়তা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে ‘জিটুপি’ বা গভমেন্ট টু পারসন পদ্ধতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি অনুদান সরাসরি উপকারভোগীর নিজস্ব ব্যাংক হিসাব অথবা পছন্দের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ম, অবৈধ দৌরাত্ম্য ও কমিশন বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
সংসদে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাজেট, ভাতার পরিমাণ এবং উপকারভোগীর সংখ্যা—সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আনা হয়েছে।
এ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতার মাসিক পরিমাণ ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ৬২ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার ক্ষেত্রেও মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খাতে উপকারভোগীর সংখ্যা ২৯ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩০ লাখ করা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী ভাতার মাসিক পরিমাণও ৯০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৪ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩৮ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা উভয়ই বাড়ানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক ১ হাজার টাকা, মাধ্যমিক পর্যায়ে ১ হাজার ১০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং উচ্চতর বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা শিক্ষাবৃত্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পাওয়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইসিস, জটিল হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, এ কর্মসূচিতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬৫ হাজার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের এককালীন জরুরি চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ রোগীপ্রতি ৫০ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুষম সম্প্রসারণ এবং উপকারভোগী নির্বাচনে কঠোর ও নিবিড় তদারকির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সব ধরনের সুবিধা প্রকৃত দুস্থ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।
মনোয়ারুল হক/
