আজ জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেবেন খলিলুর রহমান
নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৮ সেপ্টেম্বর): আজ শুরু হচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশন। এর মাধ্যমে দেশের কূটনীতিতে সংযোজিত হচ্ছে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বহুপক্ষীয় এই ফোরামের সভাপতির চেয়ারে এক বছরের জন্য বসছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নতুন এই অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিদায়ী সভাপতি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের উত্তরসূরি হলেন। ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছর মেয়াদী এই দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। বর্তমান অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ’।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন খলিলুর রহমান। এ সময় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে তাকে নতুন বৈশ্বিক নেতৃত্বে আসীন হওয়ায় উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রধান নির্বাচিত হন খলিলুর রহমান। গোপনীয় ব্যালটের ভোটাভুটিতে মোট ১৯০টি ভোটের মধ্যে তিনি পান ৯৯ ভোট, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস কাকোরিস সংগ্রহ করেছিলেন ৯১ ভোট।
জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদটি পাঁচটি আঞ্চলিক গোষ্ঠীর মধ্যে পালাক্রমে আবর্তিত হয়। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কোটায় বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে এই গৌরব অর্জন করেন খলিলুর রহমান, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক দক্ষতার আরেকটি বড় স্বীকৃতি।
এর আগে সুদূর ১৯৮৬-৮৭ সালে দেশের পক্ষে প্রথমবার জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। দীর্ঘ প্রায় চার দশক পর আবারও কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিশ্ব সংস্থার এই শীর্ষ পদে আসীন হলেন।
১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘের প্রধান নীতি নির্ধারণী ও মুক্ত আলোচনার মূল মঞ্চ। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং মানবাধিকার সুরক্ষার মতো বৈশ্বিক ইস্যুগুলোতে যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত সুদূর প্রসারী।
মনোয়ারুল হক/
