উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা

নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৭ সেপ্টেম্বর): আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে উৎসবমুখর, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে প্রচারণায় বড় ধরণের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬’ সংক্রান্ত নতুন গেজেট প্রকাশ করেছে, যাতে স্বাক্ষর করেছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। নতুন এই নিয়মে প্রথাগত পোস্টার সাটানো ও শোডাউনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্বাচনী মাঠে কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকরা কোনো ধরণের পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। দেয়াল, গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি, ভবন বা সরকারি কোনো স্থাপনায় প্রচারসামগ্রী সাঁটানো সম্পূর্ণ বেআইনি করা হয়েছে। পাশাপাশি তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত যেকোনো ধরনের জনসভা, মিছিল, মোটরবাইক বা অন্যান্য যানবাহনে শোভাযাত্রা এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে প্রচারণা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ রাখা হলেও সেখানে আনা হয়েছে স্পষ্ট নিয়ম ও স্বচ্ছতা:

  • আগে থেকে অবহিতকরণ: ডিজিটাল প্রচারণায় কোন্ কোন্ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হবে, তা প্রার্থীকে আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।
  • ব্যয়ের হিসাব: অনলাইন প্রচারের যাবতীয় খরচ প্রার্থীর নির্বাচনী মোট ব্যয়ের হিসেবে যুক্ত করতে হবে।
  • ডিজিটাল ও এআই ব্যবহারে কড়াকড়ি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে কোনো ধরণের ভুয়া, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষমূলক বা প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্রহননকারী কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

নির্বাচনী পরিবেশ স্বচ্ছ রাখতে এবং অর্থের প্রভাব কমাতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

  • সরকারি সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ: সরকারি যানবাহন, সম্পদ কিংবা কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্বাচনী কাজে লাগানো যাবে না।
  • ভোটের দিনের নিষেধাজ্ঞা: ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য প্রার্থী নিজ খরচে কোনো যানবাহন সরবরাহ করতে পারবেন না।
  • উপহার ও উপাসনালয় বর্জন: ভোটারদের প্রভাবিত করতে টাকা, খাবার বা উপহার দেওয়া যাবে না। মসজিদ, মন্দির বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচার চালানো এবং ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নতুন এই আচরণবিধি না মানলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের অধিকার সংরক্ষণ করে। মূলত সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ