মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান রাশিয়ার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৮ সেপ্টেম্বর): উপসাগরীয় অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মস্কো স্টেট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের (এমজিআইএমও) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে এই অভিমত প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা স্থাপত্যের রূপ পরিবর্তনে মস্কোর এই কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দুই দশকেরও বেশি সময় আগে উপসাগরীয় দেশগুলোর আরব রাজতন্ত্র এবং ইরানকে নিয়ে একটি যৌথ নিরাপত্তা ধারণা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। লাভরভ স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক জটিল ও শীতল সম্পর্ক মাথায় রেখেই মস্কো এই মধ্যস্থতার পথ বেছে নিয়েছিল।
এ সময় আঞ্চলিক ভূরাজনীতির নানা বাঁক বদলের প্রসঙ্গও উঠে আসে। লাভরভ উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক তেহরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এর আগে চীন ও রাশিয়ার সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে ইরান ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছিল।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ উদ্যোগে প্রস্তাবিত মক্কা চুক্তিকে একটি কার্যকর ‘সম্মিলিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষামূলক জোট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রাশিয়ার এই শীর্ষ কূটনীতিক। চুক্তির উদ্যোক্তারা আগেই স্পষ্ট করেছেন যে, এই কাঠামোর পরিধি শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাইরের অন্যান্য দেশের জন্যও এর দরজা উন্মুক্ত রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মিশরের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং আলজেরিয়ার আগ্রহের কথা উল্লেখ করে লাভরভ জানান, এসব দেশের অন্তর্ভুক্তি সার্বিক প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, ইরান কীভাবে এই নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে এবং এর সুনির্দিষ্ট শর্তগুলো কী হবে—সে বিষয়ে যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে, তবে তা হবে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। একই সঙ্গে রাশিয়া এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের নেতৃত্ব নেওয়ার চেষ্টা করবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
মনোয়ারুল হক/
