বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান চান ভলকার তুর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৮ সেপ্টেম্বর): বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ড জবাবদিহির আওতায় আনতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।

সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এ আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রমে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আরও দৃঢ় করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন জাতিসংঘের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। মূলত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই প্রস্তাব এসেছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মোট ৪৪টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বেসামরিক নজরদারি বৃদ্ধি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো সরাসরি আমলে নিয়ে তদন্ত করার আইনি এখতিয়ার যেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পায়, সে বিষয়েও তাগিদ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে মিল রেখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও যোগ্যতাভিত্তিক করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির জন্য পর্যাপ্ত সম্পদের জোগান নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রণীত গুমবিরোধী আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত নতুন আইনের খসড়া বা রূপরেখা নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞরা এখনো কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি ও সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেছেন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ