মাঠ প্রশাসনকে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করতে সংস্কার আনছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৯ সেপ্টেম্বর): মাঠ প্রশাসনের সেবা আরও জনবান্ধব, স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করতে বিদ্যমান নীতি ও ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
মো. নূরুল ইসলাম জানতে চান, মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকারের প্রচলিত নীতিমালা সংস্কার কিংবা আধুনিকায়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঠ প্রশাসনের সেবাকে নাগরিকবান্ধব ও জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকার সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার, কর্মসম্পাদন পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, পরিদর্শন ও তদারকি, গণশুনানি, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি জানান, এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে সেবা সহজীকরণ নির্দেশিকা ২০২৬, সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইট নির্দেশিকা, ২০২৬ এবং জেলা প্রশাসকদের কার্যক্রম মূল্যায়ন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।
মাঠ প্রশাসনের সেবা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে ডি-নথি, আইবাস, ই-নামজারি, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা, ই-জিপি, অনলাইন জিডি, ই-রিটার্ন, ই-পর্চা এবং অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের মতো বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা চালু করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ৯৯৯ ও ৩৩৩-এর মতো হেল্পলাইনও নাগরিক সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মসম্পাদনের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন আরও কার্যকর করতে গভর্নমেন্ট পারফরম্যান্স মনিটরিং সিস্টেম (জিপিএমএস) চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি সংক্রান্ত নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাঠ প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে অনলাইনে সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব সভার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যতে মাঠ প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব ও নাগরিককেন্দ্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিক সেবা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করা, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং কর্মসম্পাদনের ফলাফলভিত্তিক পর্যবেক্ষণ জোরদার করার মাধ্যমে বিদ্যমান নীতি ও ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়ন অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।
মনোয়ারুল হক/
