রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানি না : স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২৪ জুলাই) : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ঘিরে চলা জোর আলোচনার মধ্যেই ব্যাংককে চিকিৎসা শেষে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে কে পদত্যাগ করল বা কী ঘটে চলেছে, সে বিষয়ে তাঁর কিছুই জানা নেই; দেশের বাইরে থাকায় তিনি এই নিয়ে অবহিত ছিলেন না।

নিজের চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত সফরটি সংক্ষেপ করে ফিরে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, এখন হয়তো সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তাহলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করবেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। এই হলো সংবিধানের পজিশন।’

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা যেরকম শুনেছেন, আমিও সেরকমই শুনেছি। তিনি পদত্যাগ করলে সেই অনুযায়ী তারপর যে ব্যাকগ্রাউন্ডটা থাকে, সেই জায়গাতে… এটা অনুমাননির্ভর প্রশ্ন। সুতরাং উনি কী করবেন, না করবেন, আমি জানি না।’

নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসার কথা ছিল ২৬ তারিখে। আমার ব্যক্তিগত কাজ, আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, সেজন্যই আমি এসেছি।’

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের ওপর বর্তাবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী এটা একটা ট্র্যাডিশন। দেশের সংবিধানে লেখা আছে, যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন স্পিকার অ্যাক্টিং রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ। সেটা তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটা হলো সংবিধানের পজিশন।’

উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তার পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়।

এর আগে, চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে এরইমধ্যে অনেকটা হঠাৎ করেই বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়ায়— পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি। তার মধ্যে স্পিকারের আগাম দেশে ফেরার খবর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করে।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ