ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হতে যাচ্ছে দেশ: আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজহা
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২৭ মে) : অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার। রাত পোহালেই ত্যাগের অনন্য মহিমা নিয়ে হাজির হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কাল সকালে মেতে উঠবেন ঈদের আনন্দে।
ভোরে উৎসবের আমেজে ঈদের জামাত আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা। নামাজ শেষে মহান আল্লাহর দরবারে পশু কোরবানির মাধ্যমে নিজেদের ত্যাগ ও ভক্তি উৎসর্গ করবেন সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা।
রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রধান জামাতে সাধারণ মুসল্লিদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা বলয়। তবে দুর্যোগপূর্ণ বা প্রতিকূল আবহাওয়ার সৃষ্টি হলে বিকল্প পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সকাল ৮টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রধান জামাত স্থানান্তরিত হবে।
সব মিলিয়ে শান্তি, সৌহার্দ্য আর আত্মত্যাগের শিক্ষায় সারা দেশে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার সব প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত।
এছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্য, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন।
নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ঈদগাহে মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
এবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদুল আজহার মোট পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাতের সময় সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং ১০টা ৪৫ মিনিট।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের প্রথম জামাত সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে এবং দ্বিতীয় জামাত হবে ৮টা ৩০ মিনিটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে।
প্রায় ছয় হাজার বছর আগে মুসলিম উম্মাহর পিতা হজরত ইব্রাহিম ও তার ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত আল্লাহর নির্দেশ মানার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ঘটনা পবিত্র কুরবানি। পিতা-পুত্র আল্লাহর নির্দেশ মানার ক্ষেত্রে শতভাগ আত্মসমর্পণকারী। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে বিশ্ব মুসলিমের জন্য স্মারক করে দিলেন মহান আল্লাহ।
বৃহস্পতিবার সারা দেশে সামর্থ্যবানরা কুরবানির পশু জবাই করবেন। নিজেরা খাবেন এবং আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীকে উপহার ও হতদরিদ্রদের মাংস দান করবেন। ফলে ঈদে সবার মাঝে একটি সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে উঠবে।
এরই মধ্যে ঘরে ঘরে বিরাজ করছে ঈদের আনন্দঘন পরিবেশ।
মনোয়ারুল হক/
