কার্যকর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ বিভাগ

চট্টগ্রাম ব্যুরো, এবিসিনিউজবিডি, (২৪ জানুয়ারি) : সরকারের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধের চাপ কমানোর পাশাপাশি বাজেট বাস্তবায়নে গতি আনতে কার্যকর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (বিআইপি) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাজেট বাস্তবায়নে বিদ্যমান সমন্বয়, পরিকল্পনা ও মনিটরিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

উদ্যোগটি সফল হলে জুন মাসে অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণসহ সরকারি অর্থ ব্যবহারে দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

স্ট্রেংথেনিং পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনেবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

২৩ ও ২৪ জানুয়ারি (শুক্র ও শনিবার) কক্সবাজারের একটি হোটেলে ১৮টি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালার আলোচকরা জানান, সরকারকে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধ করতে হয়। অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আহরণ কম থাকায় সরকারকে প্রায়ই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়, যা আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই এখন থেকে অর্থবছরের শুরু থেকেই বাজেট বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে। এতে সময়মতো, কার্যকর ও ফলভিত্তিক বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।

অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট ও সামষ্টিক অর্থনীতি) মো. হাসানুল মতিন কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফেরদৌস রওশন আরা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) ও এসপিএফএমএস-এর জাতীয় কর্মসূচি পরিচালক ড. জিয়াউল আবেদীন।

স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান।

প্রধান অতিথি মো. হাসানুল মতিন বলেন, জুন মাসে সরকারের অস্বাভাবিক ব্যয় কমানোর সঙ্গে কার্যকর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বাজেট বরাদ্দ অগ্রাধিকার ও গুণগত খাতে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। অর্থবছরের শেষে অতিরিক্ত ব্যয় সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. জিয়াউল আবেদীন বলেন, কার্যকর বাজেট বাস্তবায়নের জন্য পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকই বিআইপি প্রণয়নে চলে যায়, ফলে এর কার্যকারিতা কমে যায়। বাজেট অনুমোদনের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগেভাগেই বিআইপি প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।

ফেরদৌস রওশন আরা বলেন, জাতীয় বাজেটের আকার বাড়লেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা একই হারে বাড়েনি। তিনি বিআইপিকে বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা জোরদারের একটি কৌশলগত কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করেন।

মোস্তফা কামাল বলেন, টেকসই ও মানসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং সরকারি ব্যয়ে মূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অপরিহার্য।

কর্মশালার কারিগরি অধিবেশনে ‘কার্যকর বাজেট বাস্তবায়নে বিআইপির গুরুত্ব’ বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ অধিবেশনটি মডারেট করেন মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান এবং উপস্থাপনা করেন অর্থ বিভাগের উপসচিব মো. জাকির হোসেন।

আলোচনায় বলা হয়, বিআইপি বার্ষিক বাজেট বরাদ্দকে সময়ভিত্তিক ও কার্যক্রমভিত্তিক বাস্তবায়ন রোডম্যাপে রূপ দেয়। ক্রয় পরিকল্পনা, নগদ প্রবাহ ও ত্রৈমাসিক ব্যয় লক্ষ্যের সঙ্গে বাজেট সংযুক্ত থাকায় বছরের শুরুতে বিলম্ব এবং শেষ মুহূর্তের ব্যয়ের চাপ কমে।

আরেকটি গ্রুপ সেশনে ‘বিআইপি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ বিষয়ে আলোচনায় মডারেটর ছিলেন অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. নজরুল ইসলাম।

এই সেশনে চারটি দলে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহণকারীরা সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধান প্রস্তাব দেন। আলোচনায় বিআইপি জারি বিলম্ব, বিভিন্ন সিস্টেমের সমন্বয়হীনতা, সক্ষমতার ঘাটতি, প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং আইবাস++, ই-জিপি ও বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনার দুর্বল সংযোগের বিষয়গুলো উঠে আসে।

অংশগ্রহণকারীরা সময়মতো বিআইপি জারি, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন জোরদার, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং অর্থ বিভাগের নেতৃত্বে সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করেন।

মনোয়ারুল হক/  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ