শিশু একাডেমির জমি স্থায়ী বরাদ্দের আশা প্রধান তথ্য কর্মকর্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৭ অক্টোবর): বাংলাদেশের শিশুদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল বিকাশের অন্যতম প্রধান জাতীয় প্রতিষ্ঠান হলো শিশু একাডেমি। তবে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি জটিলতা চলে আসছে এবং ইতোমধ্যে এর ইজারার মেয়াদও শেষ হয়েছে। বর্তমান আইনি জটিলতাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে শিশুদের অবাধ বিকাশের স্বার্থে জমিটি অবিলম্বে স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
আজ বুধবার ‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জন, অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ শাহবাগের জমিটি দ্রুত স্থায়ীভাবে বরাদ্দের জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শিশুদের অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা শিশু একাডেমির জমি স্থায়ী বরাদ্দ এবং দেশের প্রতিটি উপজেলায় এর কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। শিশু একাডেমির জমির আইনি জট নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বরাদ্দ দেওয়া এই জায়গাটি নিয়ে আদালতের একটি রায়ের কারণেই মূলত জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে জায়গাটির ইজারার মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকার খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে শিশু একাডেমির নামে এই জমিটি স্থায়ী ইজারার ব্যবস্থা করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে শিশুদের হাতের ওপর। বর্তমান সরকার শিশুদের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, দেশের ৬৪টি জেলায় শিশু একাডেমির কার্যক্রম থাকলেও তা এখনও সব জায়গায় সমানভাবে বিস্তার লাভ করতে পারেনি। তবে খুব দ্রুত দেশের প্রতিটি উপজেলায় শিশু একাডেমির কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী আলাদা বিশেষ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিশুদের মানসিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পড়াশোনা ও খেলাধুলায় একাডেমিকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে মন্ত্রণালয় ও শিশু একাডেমি যৌথভাবে এই লক্ষ্য অর্জনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিবেশের অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত সাড়ে সাত মাসে শিশু একাডেমির পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন করা হয়েছে। অতীতের করুণ দশা থেকে ফিরিয়ে এনে বর্তমানে একাডেমিকে মনোরম করা হয়েছে, যেখানে এখন শিশুরা এবং তাদের অভিভাবকরা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান শিশু একাডেমির কার্যক্রম আরও বহুগুণে বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বহু প্রতিকূলতার মাঝেও শিশুদের মাঝে যে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকশিত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে বড় একটি অর্জন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শিশুদের বিনোদনের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। তাই জারি-সারি গান, লাঠিখেলা ও নৌকাবাইচসহ আমাদের হাজার বছরের দেশীয় ঐতিহ্য এবং লোকসংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করাতে হবে। পাশাপাশি ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুদের মাঝে দেশপ্রেম, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার তাগিদ দেন তিনি।
প্রধান আলোচক জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কবি হাসান হাফিজ দেশের প্রতিটি উপজেলায় শিশু একাডেমির শাখা সম্প্রসারণের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, অনেক উপজেলা এখনো এই সুবিধার বাইরে রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরা যেন বৈষম্যের শিকার না হয় এবং সমান সুযোগ পায়, সে জন্য প্রতিটি উপজেলায় শিশু একাডেমির শাখা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এসএম আমানুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক সালমা আক্তার এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অধ্যাপক ড. কামাল আহমেদ চৌধুরী।
মনোয়ারুল হক/
