অস্থির এলপিজির বাজার, ফের দাম বাড়ল
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৪ অক্টোবর): নন-স্টপ সরবরাহ ঘাটতি ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের মাঝেই দেশের বাজারে ১২ কেজি ওজনের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বেসরকারি খাতের এই সিলিন্ডারের নতুন দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), যা আগের ১ হাজার ৫৮৫ টাকার তুলনায় বেশি।
আজ রবিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে নতুন নির্ধারিত এই দর কার্যকর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিইআরসি।
কমিশনের ভাষ্যমতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই প্রতি মাসে দেশের বাজারে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করা হয়। মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যটির দাম বাড়ার কারণে স্থানীয় বাজারেও প্রভাব পড়েছে।
চলতি বছরে এলপিজির দামের উত্থান-পতন:
- জানুয়ারি: ১,২৫৩ টাকা
- ফেব্রুয়ারি: ১,৩৫৬ টাকা (ভ্যাট কমার পর ১,৩৪১ টাকা)
- মার্চ: অপরিবর্তিত
- এপ্রিল: দুই দফায় ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১,৯৪০ টাকা
- জুন ও জুলাই: যথাক্রমে ৫৫ টাকা ও ৩৫৭ টাকা হ্রাস
- আগস্ট ও সেপ্টেম্বর: আগস্টে ৭০ টাকা বেড়ে ১,৫৯৮ টাকা এবং সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমে ১,৫৮৫ টাকা
- বর্তমান (অক্টোবর): এক মাসের ব্যবধানে ২৫২ টাকা বেড়ে ১,৮৩৭ টাকা
এমন এক মুহূর্তে নতুন এই দাম ঘোষণা করা হলো যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এলপিজির তীব্র সংকট চলছে। অনেক জায়গায় অতিরিক্ত টাকা দিয়েও সিলিন্ডার মিলছে না। আবার কোথাও কোথাও ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন মূল্যের ঘোষণায় সাধারণ ভোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ১২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের গত সেপ্টেম্বরের আমদানি ও বিক্রির সমস্ত তথ্য চেয়েছে বিইআরসি। গত শনিবার বিশেষ চিঠির মাধ্যমে রোববারের মধ্যেই এসব তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে, যেখানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংগৃহীত আমদানির তথ্যও যুক্ত রয়েছে।
এ বিষয়ে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য হাতে পাওয়ার পর সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অপরদিকে, এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দেয়। এমনকি ২৫ সেপ্টেম্বরের পর নির্দিষ্ট কিছু ডিপো থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়।
যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আমদানিকারকরা। তাদের দাবি, বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের মাধ্যমেই ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং আমদানি পর্যায়ে কোনো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়নি। এর আগে শনিবার জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও তাঁরা একই দাবি করেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি ও ভাড়ার খরচ বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে; বাজারে যদি কোনো সিন্ডিকেট বা কারসাজি হয়ে থাকে, তবে তা ডিস্ট্রিবিউটর বা খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবার এলপিজির মাসভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ শুরু হয়েছিল, সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য ছিল ৯৭৫ টাকা। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে দাম কমা-বাড়ার মধ্য দিয়ে গেলেও সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধির প্রবণতাটাই বেশি লক্ষ করা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিরতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে দামের ওঠানামা চললেও সেই ধারাবাহিকতাতেই দেশের বাজারে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হলো।
মনোয়ারুল হক/
