রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে কারাগারে প্রেরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৪ অক্টোবর): হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত এক নিরাপত্তা কর্মীকে মারধর, সরকারি কার্যক্রমে বাধা প্রদান এবং বিশৃঙ্খলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম তাঁকে কারাগারে প্রেরণের এই আদেশ দেন।
একদিন পুলিশি রিমান্ড শেষে এদিন আখতারুজ্জামানকে আদালতে তোলা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এই নির্দেশ দেন। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
এর আগে গত শনিবার তাঁকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে গত শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ওইদিনই নিজ বাসা থেকে ডিবি পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার মদিনা থেকে পরিবারের সদস্যসহ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সদস্যের একটি বহর ঢাকায় অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে লাগেজ সংগ্রহের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর উপস্থিতির কারণে ট্রলি পাওয়া নিয়ে কিছু ভোগান্তি দেখা দেয় এবং কর্মীদের সঙ্গে লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ জানান।
পরে নির্বাহী পরিচালক ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং অবমাননাকর ও হুমকিসূচক ভাষা প্রয়োগ করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংসদ সদস্য নিজে নির্বাহী পরিচালককে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও হুমকি দেন আখতারুজ্জামান। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিমানবন্দরের সংবেদনশীল কেপিআই এলাকায় ভিডিও করা থেকে বিরত থাকতে আখতারুজ্জামানের সঙ্গীদের অনুরোধ করেন নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। তখন আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন এবং এক পর্যায়ে ওই নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিক আঘাত করেন।
পরবর্তীতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গেলে তাঁর সঙ্গেও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন আখতারুজ্জামান। এমনকি যাত্রীদের জমজমের পানিভর্তি বোতল ও পাত্র ট্রলি থেকে নিচে ফেলে দেন তিনি।
বাদীর অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে বিমানবন্দরের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় এবং সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাঝুঁকির উদ্বেগ তৈরি হয়।
এদিকে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, বিমানবন্দরের মতো সুরক্ষিত স্থানে আখতারুজ্জামানের এমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে কোনো ষড়যন্ত্রকারী চক্র বা কারও প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মনোয়ারুল হক/
