গণতান্ত্রিক দেশ গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৬ আগস্ট) : দেশে বারবার জনগণের অধিকার খর্ব করার অপচেষ্টা রোধে একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করার ওপর জোর দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেছেন, সরকার এমন একটি শিকলমুক্ত গণতান্ত্রিক দেশ গড়তে চায়, যেখানে ভবিষ্যতে আর কেউ কখনো জাতির পায়ে শিকল পরাতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ শীর্ষক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) এই প্রকাশনার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের বয়স ৫৫ বছরের বেশি হলেও বারবার সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বারবার রক্ত ও প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে, যা দেশের স্বাভাবিক সমৃদ্ধির গতিকে শ্লথ করেছে। যেসব দেশ ধারাবাহিক সমৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে, কেবল তারাই আজ বিশ্বমঞ্চে পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে এবারের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুণগত পার্থক্যের কথা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীতে অনেক আন্দোলন শুধু অন্যায়ের প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের অভাবে তা হারিয়ে গিয়ে পুনরায় ফ্যাসিবাদের জন্ম দিত। তবে এবার ফ্যাসিবাদের পতনের পাশাপাশি দেশ গঠনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও করা হয়েছে। তিনি জানান, রক্তক্ষয়ী এই অর্জনের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পুরোনো শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্র কাঠামো ও রাজনীতি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনের রূপরেখা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের অনেক আন্দোলনের শুরুতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ছিল না। এমনকি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতার একপর্যায়ে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর বিপরীতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল—ফ্যাসিবাদের পতনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা। এই রূপরেখাটি আগেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানের ৩১ দফার মাধ্যমে নির্ধারিত ছিল এবং সরকার সেই পথ ধরেই কাজ করে যাচ্ছে।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বিগত দেড় দশকের আন্দোলন এবং জুলাইযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ফলেই দেশ আজ গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বেই এই গণতান্ত্রিক যাত্রা বেগবান হয়েছে। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শাহ আলম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত এই স্মারকগ্রন্থে ফ্যাসিবাদের আমলের জেল-জুলুম, নির্যাতন ও আয়নাঘরের বিভীষিকা উপেক্ষা করে রাজপথে লড়াকু সৈনিকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। এই সংকলনটি আগামী দিনে গবেষক ও পাঠকদের জন্য একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করবে।

তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ জানান, গত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, কারা নির্যাতন ও মামলার শিকার হয়েছেন—তাদের প্রত্যক্ষ স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই বিশেষ গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের বীর সেনানিদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই তথ্য অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ