তিস্তার পানি কমে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচে
নিজস্ব প্রতিবেদক (নীলফামারী), এবিসিনিউজবিডি, (৬ আগস্ট) : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টির ফলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে গত বুধবার ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটার, যা এই পয়েন্টের নির্ধারিত বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটারের ৭ সেন্টিমিটার নিচে।
এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়ীবাড়ী, টেপাখড়ীবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছা চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়ন এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারীর নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছিল।
এর ফলে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি এবং চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ পানির নিচে তলিয়ে যায়। তবে বর্তমানে নদীর পানি কমতে থাকায় ওই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। অনেক স্থান থেকে পানি নেমে গেলেও কিছু নিম্নাঞ্চল ও চরে এখনও কিছুটা পানি রয়ে গেছে, আর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ নিজেদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ডিমলার টেপাখড়ীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন জানান, পানি নামতে শুরু করলেও অনেক নিম্নাঞ্চলে এখনও জমানো পানি রয়ে গেছে, যার কারণে দুর্গত মানুষের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।
অন্যদিকে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, উজানের পাহাড়ি ঢলের চাপ কমে যাওয়ায় তিস্তার পানি দ্রুত নেমে গিয়ে এখন বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে। নদীতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো অর্থাৎ ৪৪টি জলকপাটই খুলে রাখা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মনোয়ারুল হক/
