খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায়, শনিবার রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৩ জুলাই) : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আকস্মিক হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিদায় অনুষ্ঠানের আগে, শুক্রবার তাঁর মরদেহ তেহরানের ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিনটি যখন শোকাতুর জনতা কাঁধে করে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কালো পোশাকে আবৃত লাখো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা শোকের সাগরে পরিণত হয়েছে। লাল ফুলের স্তবক আর প্রতীকী সাদা প্রজাপতি দিয়ে সাজানো হয়েছে কফিন রাখার স্থানটি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থাতেই এই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছে দেশটির প্রশাসন। তেমনটি হলে এটি হবে ইরানের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ প্রায় ৩০টি দেশের বিশিষ্ট প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া চীন, আফগানিস্তান এবং ককেশাস অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকেও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছাবে।
এদিকে, খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ দেশবাসীকে দলমত নির্বিশেষে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই বিশাল উপস্থিতির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে ইরানের প্রতিশোধের বজ্রকণ্ঠ পৌঁছে দিতে হবে।”
৮৬ বছর বয়সে তেহরানের নিজস্ব কমপ্লেক্সে হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান শিয়া মুসলিমদের এই শীর্ষ আধ্যাত্মিক নেতা। তাঁর মরদেহ আগামী তিন দিন গ্র্যান্ড মোসাল্লাতেই রাখা হবে, যেখানে তাঁর সঙ্গে নিহত অন্যান্য স্বজনদের মরদেহও থাকবে।
মহাজাগতিক এই শোকাবহ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরানসহ পবিত্র নগরী কোম ও মাশহাদে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তেহরানের সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে এবং শহরের কেন্দ্রে যান চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে শুক্রবার থেকেই তেহরানের আকাশসীমা আংশিক এবং সোমবার পূর্ণাঙ্গভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গ্র্যান্ড মোসাল্লার আনুষ্ঠানিকতা শেষে আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফ ও কারবালার পবিত্র স্থানগুলোতে নেওয়া হবে। এরপর আগামী ৯ জুলাই তাঁর জন্মভূমি মাশহাদের ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে। তবে এই মূল অনুষ্ঠানে খামেনির ছেলে তথা পরবর্তী উত্তরসূরি মোজতাবা খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হবেন কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
মনোয়ারুল হক/
