উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও ডেল্টা অর্থনীতির জন্য ব্লু কার্বন ফাইন্যান্স জরুরি : পরিবেশমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৩ জুলাই) : উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জানমাল রক্ষা এবং দেশের ডেল্টা বা বদ্বীপ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে ‘ব্লু কার্বন ফাইন্যান্স’ বা নীল কার্বন অর্থায়ন এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে ব্লু কার্বন ইকোসিস্টেমকে কেবল পরিবেশগত উপাদান নয়, বরং জলবায়ু, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থিত জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেশনে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমন্বিত জলবায়ু কার্যক্রম ত্বরান্বিতকরণ: ব্লু কার্বন অর্থায়নের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা’ শীর্ষক এই বিশেষ সেশনটি যৌথভাবে আয়োজন করে জাতিসংঘের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (এসকাপ) এবং ল্যান্ডস্কেপ অ্যালায়েন্স।

বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়। এখানেই শেষ নয়, জলবায়ু অভিবাসন সংক্রান্ত এক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু সংকটের জেরে দেশের ভেতরেই প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হতে পারে। এমন ভয়াবহ বাস্তবতায় বাংলাদেশের বিশাল ম্যানগ্রোভ বন এবং উপকূলীয় জলাভূমিকে কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে দেখলে চলবে না; এগুলো মূলত আমাদের দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘জাতীয় জলবায়ু অবকাঠামো’।

আবদুল আউয়াল মিন্টু উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় অত্যন্ত তৎপর। এই সুরক্ষাকবচ আরও শক্তিশালী করতে আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের একটি মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি তিনি আঞ্চলিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জলবায়ু এবং বাস্তুতন্ত্র একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো জলবায়ুর অভিন্ন ক্ষত যেমন—ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে। এই সংকট কাটাতে তিনি ব্লু কার্বন ম্যাপিং, কার্বন পরিমাপের অভিন্ন নীতিমালা এবং একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক কার্বন মার্কেট গড়ে তোলার তাগিদ দেন। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সংস্থা ‘এসকাপ’ প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উচ্চপর্যায়ের এই আন্তর্জাতিক সেশনে পাকিস্তানের পরিবেশমন্ত্রী শেজরা মানসাব আলী খান খারাল, মালদ্বীপের পরিবেশমন্ত্রী আলী শরীফ এবং এসকাপের নির্বাহী সচিব আরমিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানাসহ বিভিন্ন দেশের পরিবেশমন্ত্রী ও বৈশ্বিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ