সংসদে সময় বণ্টনে বৈষম্য ও কার্যপ্রণালী লঙ্ঘনের অভিযোগ জামায়াতের
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২৯ জুন) : জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণে চরম বৈষম্য এবং সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির অভিযোগ, বিরোধী শিবিরের জন্য বরাদ্দকৃত সময় অন্যায়ভাবে কর্তন করা হলেও, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত সময় ধরে বক্তব্য রাখার একচেটিয়া সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান এবং জোটের শীর্ষ নেতারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গতকাল রবিবার রাতের সংসদীয় কার্যক্রমকে ‘সংসদীয় রীতিনীতি ও পূর্বসমঝোতার চরম পরিপন্থি’ বলে আখ্যা দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে নাজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, সংসদে ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধী দলের সদস্যদের নির্ধারিত বক্তব্য থেকে ৫ মিনিট করে কেটে নেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের মাত্র তিনজন সদস্য কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। অথচ সরকারি দলের ক্ষেত্রে চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দকৃত ৪০ মিনিটের সময়সীমা বাড়িয়ে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় দেওয়া হয়েছে এবং রাত ১০টার পরও সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্য চলমান রাখা হয়েছে, যা উভয় পক্ষের মধ্যকার আগের আলোচনার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
সংসদীয় বিল উত্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। নাজিবুর রহমান বলেন, কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭ নম্বর ধারা তোয়াক্কা না করেই সংসদে একের পর এক বিল আনা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের বিল পর্যালোচনা বা আপত্তি তোলার জন্য যে পর্যাপ্ত সময় ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেওয়ার কথা, তা দেওয়া হচ্ছে না। স্পিকারের বিশেষ ক্ষমতাকে নিয়মে পরিণত করে প্রতিদিন নতুন বিল পেশ করা হচ্ছে। এছাড়া পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে কথা বলতে না দেওয়ার ঘটনাটিই সংসদ থেকে তাদের ওয়াকআউটের অন্যতম কারণ ছিল বলে তিনি জানান।
ব্রিফিংয়ে জোটের এক প্রবীণ সংসদ সদস্য রবিবারের সংসদীয় ঘটনাকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ‘ন্যাক্কারজনক ও উদ্ধতপূর্ণ’ অধ্যায় বলে মন্তব্য করেন। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় কঠোরভাবে সময়সীমা মেনে চলতেন। অথচ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত ৪০ মিনিটের জায়গায় প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট বক্তব্য দিয়েছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জামায়াত ও জোট নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে দাঁড়িয়ে যদি জনগণের কথা বলার ন্যায্য সুযোগই না পাওয়া যায়, তবে সেখানে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সংসদের ভেতর ও বাইরে সব ধরনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
মনোয়ারুল হক/
