ন্যাটোর সাথে স্নায়ুযুদ্ধের মধ্যেই আর্কটিকে রুশ পারমাণবিক বোমারু বিমানের দীর্ঘ টহল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২৩ জুন) : ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সাথে চরম উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের শক্তির জানান দিল মস্কো। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বেরেন্টস ও নরওয়েজিয়ান সাগরের আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় এক দীর্ঘ আকাশ মহড়া পরিচালনা করেছে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তাদের ‘তুপোলেভ তু-১৬০’ (Tu-160) স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমানগুলো টানা ১৬ ঘণ্টার এক ম্যারাথন মিশন সম্পন্ন করেছে। হাই-ভোল্টেজ এই অভিযানে বোমারু বিমানগুলোর আকাশ-নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল ‘মিগ-৩১’ ফাইটার জেট। নরওয়ে, আইসল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ড সংলগ্ন আর্কটিকের আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে এই বিশেষ টহল দেওয়া হয়। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে মাঝ-আকাশেই জ্বালানি সংগ্রহের জটিল প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করে রুশ বিমানগুলো। তবে মস্কোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই দীর্ঘ ফ্লাইটের কিছু অংশে বেশ কয়েকটি বিদেশি ফাইটার জেট রুশ বহরটিকে ছায়ার মতো অনুসরণ করেছিল।
অবশ্য রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক টেলিগ্রাম বার্তায় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের এই অ্যারোস্পেস ফোর্সের সমস্ত কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ব্যবহারের বৈশ্বিক নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনেই পরিচালিত হয়েছে।
বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির বর্তমান অস্থিরতা ও নতুন কৌশলগত ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে সম্প্রতি বেলারুশের সাথে যৌথ পারমাণবিক মহড়াও সম্পন্ন করেছে ক্রেমলিন।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই সতর্কতামূলক অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থেই তাদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, রাশিয়ার ওপর আগে কোনো আঘাত না এলে তারা ন্যাটোভুক্ত কোনো রাষ্ট্রে হামলা চালাবেন না।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। এক নিবন্ধে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে লিখেছেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোর অবিরাম সামরিক সহায়তা প্রদান এবং ইউরোপের এই অতি-সামরিকীকরণ পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ল্যাভরভের মতে, ন্যাটোর সাথে রাশিয়ার যেকোনো প্রত্যক্ষ সংঘাত মুহূর্তের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—যার চড়া মূল্য চোকাতে হবে পুরো বিশ্বকে। সূত্র: আরটি
মনোয়ারুল হক/
