প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা: পররাষ্ট্র সচিব
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২০ জুন) : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে।
আজ (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, বেইজিং সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি প্রটোকল এবং একটি অ্যাকশন প্ল্যানসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় নথিপত্র সই হতে পারে।
সফরের মূল সূচি অনুযায়ী- ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন তিনি।
চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ (যা সামার দাভোস ফোরাম নামে পরিচিত) এ যোগ দেবেন। এবারের ফোরামের প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’। বিশ্ব অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উদ্ভাবন নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ থেকে ১,৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আগামীকাল রবিবার বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। এরপর সোমবার বিকেলে তিনি চীনের উদ্দেশে রওনা হবেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী দলটিকে বেশ ছোট রাখা হয়েছে। দুই দেশেই প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে।
এই দ্বিপক্ষীয় সফরকে বাংলাদেশের অর্থনীতি জোরদার, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ (কানেক্টিভিটি) বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আগামী শুক্রবার রাতে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আজকের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম শহিদুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মনোয়ারুল হক/
