বিশ্ব টেক্সটাইল বাজারে আধিপত্য ধরে রাখতে উদ্ভাবন ও গবেষণার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২০ জুন) : বিশ্বের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ন রাখতে এবং ভবিষ্যতে এই খাতে নেতৃত্ব দিতে হলে ব্যাপক গবেষণা ও নতুন নতুন উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি তৈরি পোশাক শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন টেক্সটাইল’ প্রযুক্তির টেকসই ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস (বুটেক্স)-এ আয়োজিত ‘৪র্থ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন টেক্সটাইল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিটিএসই-২০২৬)’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত রক্ত সঞ্চালনের মতো প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এই খাতের ওপর প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৬০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান নির্ভরশীল, যার একটি বড় অংশই দেশের নারী শক্তি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও কাঁচামালের জন্য এখনও পরনির্ভরশীলতা রয়ে গেছে। চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের মতো তীব্র বৈশ্বিক প্রতিযোগীদের মোকাবিলা করে টিকে থাকতে হলে গবেষণার মাধ্যমে নতুন পথ ও নিজস্ব কাঁচামাল উদ্ভাবন করতে হবে।
প্রযুক্তির আধুনিকায়ন নিয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটালাইজেশন বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আমাদের পোশাক খাতের চাকরি কেড়ে নেবে না। বরং এটি পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি, বৈচিত্র্যময় ও সৃজনশীল ডিজাইন তৈরি এবং বৈশ্বিক বিপণন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে দেশে পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন টেক্সটাইল’ ও রিসাইক্লিং (পুনর্ব্যবহার) ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মসলিন কাপড়ের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণ করে তিনি আধুনিক বিজ্ঞানের সাহায্যে সেই সোনালী অতীতকে ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেন।
এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় সিনথেটিক বা প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পচনশীল পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাড়াতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হবে।
বুটেক্স-এর ঐতিহাসিক পটভূমি স্মরণ করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০০৬ সালে কলেজ থেকে এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। আজ এই প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটরা শুধু চাকরিজীবী নন, বরং অনেকেই সফল উদ্যোক্তা হয়ে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছেন। পাশাপাশি টেক্সটাইল প্রকৌশলীরা বিসিএস, পুলিশ প্রশাসন ও রাজনীতিতেও সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন,”প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের শিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকার সকল প্রকার প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করবে।”
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ (Keynote Paper) উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন টেক্সটাইল বিজ্ঞানী মাইকেল কোকেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান হাবিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং দেশ-বিদেশের গবেষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
এর আগে মন্ত্রী দেশব্যাপী আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুটেক্স চত্বরে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
মনোয়ারুল হক/
